যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

ডিজেলের দামে রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ PM ৭৪
ডিজেলের দামে রেকর্ড, যুক্তরাষ্ট্রে গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের বেশি

যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের গ্যালনপ্রতি দাম রেকর্ড উচ্চতায়। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে নতুন রেকর্ড তৈরি হয়েছে। দেশটিতে প্রথমবারের মতো ডিজেলের গড় খুচরা মূল্য গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ওপরে উঠেছে। জ্বালানি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া চাপের মধ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার কয়েকটি শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি জ্বালানি সরবরাহে প্রভাব ফেলেছে। একই সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামও বেড়েছে।

পরিবহন ও শিল্প খাতে ডিজেলের ব্যবহার ব্যাপক। পণ্যবাহী ট্রাক, রেল ও জাহাজের পাশাপাশি ভারী শিল্প এবং কৃষির বিভিন্ন যন্ত্রপাতিতেও এই জ্বালানি প্রয়োজন হয়। ফলে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকছে না; পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন রিপাবলিকান পার্টি। এমন সময়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সরকারের অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জীবনযাত্রার ব্যয় সামলানোর ক্ষেত্রে রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটদের প্রতি বেশি আস্থা দেখা যাচ্ছে। ট্রাম্পও ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের আগে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা কম।

আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৬৩ ডলারে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১০২ দশমিক ৪৮ ডলারে পৌঁছেছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বাড়লে তেলের বাজারে এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতিবেদনের হিসাবে, ইরান যুদ্ধ শুরুর পর পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। পুরো যুদ্ধকালীন সময়ে দাম বেড়েছে প্রায় ৬০ শতাংশ। এর পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহেও বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।

সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে রাশিয়ার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং চীনের সাম্প্রতিক জ্বালানি রপ্তানি সীমাবদ্ধতা। ফলে বিশ্ববাজারে পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (ইআইএ) তথ্য বলছে, দেশটিতে ডিজেলের মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ কমে ১০ কোটি ৬৩ লাখ ব্যারেলে দাঁড়িয়েছে। শোধনাগারগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ করলেও চাহিদার তুলনায় মজুদের পরিমাণ বহু বছরের মধ্যে সবচেয়ে নিচের দিকের অবস্থানে রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, শরৎ মৌসুমে শোধনাগারগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ শুরু হলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও চাপে পড়তে পারে। তাদের পূর্বাভাস, আগামী বছরের শুরু পর্যন্ত জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা ও উচ্চমূল্যের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে।

ডিজেল

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!