যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে কাল গ্রিডে আসছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

সাইফুল ইসলাম জয়

সাইফুল ইসলাম জয়

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ PM ৭০
তিতাসের ২৮ নম্বর কূপ থেকে কাল গ্রিডে আসছে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের কূপ; ছবি: সংগৃহীত

দেশীয় উৎস থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে শনিবার জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে দৈনিক ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) জানিয়েছে, কূপটির উদ্বোধনের পরপরই গ্রিডের সঙ্গে সংযোগ দেওয়া হবে।

বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা বলছেন, তিতাস-২৯, তিতাস-৩০, তিতাস-৩১ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপের কাজও এগিয়ে চলছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব কূপ চালু করা সম্ভব হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে নতুন করে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ হতে পারে। তিতাস-২৮-এর উৎপাদন যুক্ত হলে পাঁচটি কূপ থেকে সম্ভাব্য অতিরিক্ত সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট।

বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. আশরাফুল আলম জানান, তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি শনিবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন। এরপরই কূপটি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সংযুক্ত করা হবে।

তাঁর মতে, নতুন কূপ থেকে উৎপাদন শুরু হলে দেশের অভ্যন্তরীণ উৎসের গ্যাস সরবরাহ বাড়বে। এর ফলে আমদানিনির্ভরতার ওপর চাপ কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে ৪টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দিন জানান, তিতাস-২৮-এর খননকাজ প্রায় এক মাস আগে শেষ হয়েছে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীর এই কূপটি উৎপাদনে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি জানান, প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিতাস-২৮, তিতাস-২৯, তিতাস-৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে তিতাস-২৮ শনিবার উৎপাদনে যাবে। বাকি কূপগুলোর কাজ শেষ করে পর্যায়ক্রমে সেগুলো থেকেও গ্রিডে গ্যাস দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব বলেন, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খনন শুরু হয় চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল। এরই মধ্যে কূপটির গভীরতা প্রায় ৪ হাজার ৯২০ মিটারে পৌঁছেছে। নির্ধারিত গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কম-বেশি হতে পারে।

গভীরতার কারণে তিতাস-৩১ খননে অন্য কূপের তুলনায় বেশি সময় লাগছে বলে জানান তিনি। ভূতাত্ত্বিক কোনো জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। কূপটি সফল হলে প্রতিদিন প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তিতাস-২৯-এর ক্ষেত্রেও মূল খননপর্ব শেষ হয়েছে। বর্তমানে লগিংসহ প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক কাজ চলছে। এসব কার্যক্রম শেষ করে আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে কূপটি উৎপাদনের উপযোগী করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখান থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছে বিজিএফসিএল।

তিতাস-৩০ নম্বর কূপের কাজও আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। এই কূপ থেকে প্রতিদিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

তিতাস-৩১-এর কাজ শেষ হলে বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর গভীর কূপ খননে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বিজিএফসিএলের। বাখরাবাদ-১১-এর লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৪ হাজার ৫০০ মিটার, যা প্রায় ১০০ মিটার কম-বেশি হতে পারে। খনন ও পরীক্ষা সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

সব মিলিয়ে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং বাখরাবাদ-১১ থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিতাস-২৮-এর ১২.৫ মিলিয়ন ঘনফুট যুক্ত হলে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৬৭.৫ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

এদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের বর্তমান মজুত আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় সেখানে অতিরিক্ত গ্যাসের মজুত শনাক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক ধারণা, তিতাস-৩১-এর মাধ্যমে আরও প্রায় দুই টিসিএফ গ্যাসের মজুত পাওয়া যেতে পারে। তবে এই পরিমাণ এখনো নিশ্চিত নয়। কূপটির খনন শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন স্তরে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল পাওয়া গেলে নতুন মজুতের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

তিতাস গ্যাসক্ষেত্র

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!