যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

রাজধানীর বাজারে সবজি-মাছে বাড়তি দাম, স্বস্তি নেই ক্রেতাদের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ PM ৭৪
রাজধানীর বাজারে সবজি-মাছে বাড়তি দাম, স্বস্তি নেই ক্রেতাদের

রাজধানীর বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন সবজি ও মাছ। সংগৃহীত

শীতের সবজির মৌসুম সামনে এলেও রাজধানীর বাজারে এখনো কমেনি সবজির দাম। অধিকাংশ সবজি ৮০ টাকা বা তার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি কয়েক ধরনের মাছের দামও বেড়েছে। তবে মুরগির দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ডিমের দামে বাজারভেদে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে।

শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, করলা, লতি, পটল, কাঁকরোল ও শসা বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে। ঢেঁড়স ৬০ টাকা এবং আকারভেদে লাউ ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি। গাজরের দাম ১৪০ টাকা, পেঁপে ৩০, টমেটো ১২০, আলু ৩০ ও পেঁয়াজ ৫০ টাকা কেজি।

এ ছাড়া শিম ২০০ টাকা, বরবটি ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১৪০ টাকা এবং লম্বা বেগুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। সবজির মধ্যে শিমই এখন সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে কাঁচা মরিচের দামে কিছুটা নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। আগে ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে বাজারে এটি ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

মাছের বাজারেও বাড়তি দামের প্রভাব রয়েছে। আকার ও মান অনুযায়ী প্রতি কেজি রুই বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে। গত সপ্তাহে এই মাছের দাম ছিল ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। বর্তমানে পাবদা ৬০০ টাকা, কই ৩৩০, তেলাপিয়া ২৩০ এবং পাঙ্গাস ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

চিংড়ির দামও আকারভেদে বেশ চড়া। প্রতি কেজি চিংড়ি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। বিশেষ করে পাবদার দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে। তখন প্রতি কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হলেও এখন তা ৬০০ টাকায় উঠেছে।

মাছ বিক্রেতা রহিম মিয়া বলেন, মাছের দাম নির্দিষ্ট নয়। বাজারে সরবরাহের পরিমাণের ওপর দাম অনেকটাই নির্ভর করে। সরবরাহ বাড়লে দাম কমে, আর ক্রেতার চাপ বাড়লে দামও বেড়ে যায়। এমনকি একই দিনে সকাল ও বিকেলের বাজারেও দামের পার্থক্য দেখা দিতে পারে।

মুরগির বাজার অবশ্য আগের অবস্থাতেই রয়েছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা এবং কক মুরগি ৩৩০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে, বাজারভেদে ডিমের দামে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। বর্তমানে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়।

মিরপুরের বিক্রেতা মাজহার জানান, শুক্রবার ছুটির দিনে অনেক পরিবার একসঙ্গে কয়েক দিনের বাজার করে। এতে বেগুন, শিম, কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন সবজির চাহিদা বাড়ে। সরবরাহ সেই অনুপাতে না থাকলে স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়।

বিক্রেতাদের আশা, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাজারে বাড়লে দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এখন পণ্যের সরবরাহ, চাহিদা, পরিবহন ব্যয় ও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই প্রতিদিন দামে পরিবর্তন হচ্ছে। তাই নিত্যপণ্যের বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের প্রত্যাশিত স্বস্তি এখনো ফেরেনি।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!