গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিক বিরোধের জেরে মৃত ব্যক্তির মরদেহ দাফন নিয়েও বিতর্ক তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবিরের সমালোচনা করেছেন গণঅধিকার পরিষদের মুখপাত্র আবু হানিফ। তাঁর অভিযোগ, আওয়ামী লীগের আমলে দেখা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চর্চা এখন জামায়াত-শিবিরের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে আবু হানিফ এসব কথা বলেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলার বাদী ও রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম প্রধান সাক্ষী মানিক পশারীর মরদেহ দাফন নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়। তাঁর দাবি, জামায়াত-শিবিরের চাপের মুখে মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে মানিক পশারীকে দাফন করা হয়।
আবু হানিফের পোস্ট অনুযায়ী, শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ২টার দিকে পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামে মানিক পশারীর বাড়িতে পুলিশ তাঁর দাফন সম্পন্ন করে। এ ঘটনা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন করেন, প্রতিপক্ষের সঙ্গেও ন্যায়বিচার করার যে কথা জামায়াত বলে, এমন পরিস্থিতি সেই বক্তব্যের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ।
নিজের বক্তব্যের সমর্থনে আবু হানিফ অতীতের দুটি রাজনৈতিক ঘটনার প্রসঙ্গও টানেন। তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর কবরকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতা রাব্বানীর নেতৃত্বে হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া ২০১৯ সালের ২২ জুন চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় ছাত্রলীগ হামলা করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
আবু হানিফের ভাষ্য, এসব ঘটনা রাজনৈতিক বিরোধের কারণে মৃত ব্যক্তিকে ঘিরেও প্রতিহিংসামূলক আচরণের দৃষ্টান্ত। তাঁর মতে, এ ধরনের চর্চা কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর নয়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও মৃত ব্যক্তির প্রতি সম্মান এবং পরিবারের মর্যাদা রক্ষা করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পোস্টের শেষাংশে গণঅধিকার পরিষদের এই মুখপাত্র বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাংলাদেশে রাজনৈতিক বিরোধের কারণে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না তিনি। মানিক পশারীর দাফন নিয়ে তাঁর বক্তব্যে জামায়াত-শিবিরের ভূমিকা সম্পর্কে যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা আবু হানিফের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে।
আবু হানিফ মানিক পশারী
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!