যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে জাপান সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৬ PM ৩
বিনিয়োগ ও বাণিজ্য বাড়াতে জাপান সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর ঘিরে দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারের প্রত্যাশা। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়ে চার দিনের সরকারি সফরে জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে এ সফরে অবকাঠামো, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিভিন্ন দিক গুরুত্ব পাবে। রোববার দিবাগত রাত ১২টা ১০ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তাঁর টোকিওর উদ্দেশে যাত্রা করার কথা রয়েছে।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। সেখানে দুই দেশের চলমান সহযোগিতার অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি এবং বিদ্যমান অংশীদারত্ব কার্যকর করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে।

জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামেও বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া দেশটির শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাণিজ্যিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি বিশেষ গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নেওয়ার সূচি রয়েছে তাঁর। এসব আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতে জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।

সফরকালে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা জাইকা, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশন (জেট্রো), জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন (জেবিআইসি) এবং সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি একটি এলএনজি টার্মিনাল, বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র, পোশাক ব্র্যান্ড ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের তথ্য অনুযায়ী, সফরে কৃষি, মৎস্য, প্রযুক্তি ও দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকারব্যবস্থার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারক বা চুক্তি সই হতে পারে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

দ্বিপক্ষীয় অর্থনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিষয়ও সফরের আলোচ্যসূচিতে থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট, টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা, এই সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।

তারেক রহমান জাপান সফর

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!