যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৬ PM ৫৫
এলডিসি উত্তরণের পরও বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেবে যুক্তরাজ্য

ছবি: সংগৃহীত

স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের পরও যুক্তরাজ্যের বাজারে বাংলাদেশের ৯২ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক। এর মধ্যে বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাকও থাকবে।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীতে আয়োজিত ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।

সারাহ কুক বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের বাজারে ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাচ্ছে। এলডিসি উত্তরণের পরবর্তী তিন বছর বর্তমান সুবিধা অব্যাহত থাকবে। এরপর যুক্তরাজ্যের ডেভেলপিং কান্ট্রিজ ট্রেডিং স্কিমের (DCTS) আওতায় ৯২ শতাংশ পণ্যে শূন্য শুল্কের সুবিধা থাকবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের DCTS ব্যবস্থায় বর্তমানে ‘কমপ্রিহেনসিভ প্রেফারেন্সেস’ভুক্ত দেশগুলোর ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ পণ্য এবং ‘এনহ্যান্সড প্রেফারেন্সেস’ভুক্ত দেশগুলোর ৯২ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত সুবিধা পায়। বর্তমানে বাংলাদেশ কমপ্রিহেনসিভ প্রেফারেন্সেসের আওতায় রয়েছে।

ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ যাতে মসৃণ ও টেকসই হয়, সেটি যুক্তরাজ্যের অগ্রাধিকারের একটি বিষয়। তার মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য যুক্তরাজ্যের DCTS বিশ্বের অন্যতম সহজ ও উদার বাণিজ্য সুবিধা ব্যবস্থা।

যুক্তরাজ্য সরকারও এর আগে জানিয়েছিল, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকসহ অধিকাংশ রপ্তানি পণ্য যুক্তরাজ্যের বাজারে অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা পাবে। DCTS মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলোর রপ্তানিতে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহার এবং বাণিজ্য বিধি সহজ করার জন্য চালু করা হয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্পর্ককে কৌশলগত ও বিশ্বস্ত অংশীদারত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন সারাহ কুক। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এখন আরও আধুনিক ও কৌশলগত পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার প্রতিফলন এই সম্পর্কে দেখা যাচ্ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্কের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। আর্থিক খাত, ফ্যাশন, শিক্ষা ও জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্রিটিশ কোম্পানিগুলো কাজ করছে এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়েও কথা বলেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার। তিনি বলেন, অবাধ ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল নিয়ে দুই দেশের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। একই সঙ্গে বঙ্গোপসাগরের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকির মতো নতুন ধরনের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন সারাহ কুক।

রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোযোগ ধরে রাখা জরুরি। পরিস্থিতি অনুকূল হলে রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে মিয়ানমারে প্রত্যাবর্তনই এই সংকটের টেকসই সমাধান বলে যুক্তরাজ্যের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকির ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে উল্লেখ করে সারাহ কুক বলেন, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, আবহাওয়ার ধরন পরিবর্তন ও চরম আবহাওয়ার প্রভাব বাংলাদেশের মানুষের জন্য ইতোমধ্যেই বাস্তব অভিজ্ঞতায় পরিণত হয়েছে।

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) তিন দিনব্যাপী ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬’ আয়োজন করেছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!