লালমনিরহাটের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। ছবি: সংগৃহীত
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত কোনো ‘অফ ডে’ রাখা যাবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। একই সঙ্গে বিদ্যালয় ও অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় লালমনিরহাট জেলা শহরের চার্চ অব গড মিশন ক্যাম্পাসে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সদর উপজেলার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির সচেতনতামূলক প্রচারসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়া গেলে আগামী এক বছরের মধ্যেই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় দৃশ্যমান ও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব।
শিক্ষকদের উপস্থিতির প্রসঙ্গে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, অনেক সময় দুপুরের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে শিক্ষার্থীদের পাওয়া যায় না। তাদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে শিক্ষক না থাকার কথা বলা হয়। শিক্ষকরা উপস্থিত না থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করাও কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালে কোনো শিক্ষক-শিক্ষিকা বিকেল ৪টার আগে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করতে পারবেন না। শিক্ষকদের নিয়মিত উপস্থিতি থাকলে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
শিক্ষকদের অতিরিক্ত ছুটির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় সরকারি ছুটির বাইরে অতিরিক্ত ছুটি ভোগের সুযোগ ছিল না। ধীরে ধীরে এ ক্ষেত্রে অনিয়ম তৈরি হয়েছে। এখন সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, পাঠদান শেষ হওয়ার পর কোনো শিক্ষকের ক্লাসের দায়িত্ব না থাকলে তাকে প্রশাসনিক বা অন্য দায়িত্ব দেওয়া যেতে পারে। সরকারি ছুটির বাইরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ‘অফ ডে’ রাখা যাবে না। প্রশাসনের কর্মকর্তারাও সরকারি ছুটির বাইরে দায়িত্ব পালন করেন উল্লেখ করে শিক্ষকদেরও নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম দায়িত্বশীলতার সঙ্গে চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নজরদারি ও উপস্থিতি নিশ্চিত করতে ডিজিটাল হাজিরা এবং সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ওপরও গুরুত্ব দেন ত্রাণমন্ত্রী। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিজিটাল হাজিরা বাধ্যতামূলক করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার পরিবেশ, নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সিসিটিভি স্থাপন করা উচিত। প্রয়োজন হলে এ বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের হাতে ‘আলোকিত লালমনিরহাট’ কর্মসূচির লিফলেট ও প্রচারপত্র তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি মন্ত্রীর লেখা ‘জাগো বাহে তিস্তা’ বই বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মো. রাশেদুল হক, পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রুখসানা পারভীন, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবিএম ফারুক সিদ্দিকসহ শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন।
লালমনিরহাট ত্রাণমন্ত্রী
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!