এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রতীকী ছবি; ছবি: সংগৃহীত
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল নভেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রকাশের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে শিক্ষা প্রশাসন। সম্ভাব্য সময় হিসেবে ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ফল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়াও ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানান বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান। তিনি বলেন, নভেম্বরের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে ফল প্রকাশের লক্ষ্য সামনে রেখে মূল্যায়নসহ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
এবার ফল প্রস্তুতিতে বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই বোর্ডের কয়েকটি বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত হওয়ায় লিখিত পরীক্ষা শেষ করতে অন্য বোর্ডের তুলনায় বেশি সময় লেগেছে। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফল প্রকাশের জন্য অতিরিক্ত পরীক্ষক দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়নের কাজ দ্রুত করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত পরীক্ষাগুলো পুনঃনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত ৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। ফলে বাকি বোর্ডগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একযোগে ফল প্রকাশের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছিল ২ জুলাই এবং লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এবার দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এসব পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৯ হাজার ৪৩৯টি।
পরীক্ষার্থীদের মধ্যে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ছিলেন ১০ লাখ ৬৯ হাজার ৭১৪ জন। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯২ হাজার ৯০৫ জন। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিলেন ঢাকা বোর্ডে। এ বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩৯৩ জন। রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯ এবং চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
এ ছাড়া কুমিল্লা বোর্ডে ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশাল বোর্ডে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী ছিলেন।
তবে ৭ থেকে ১৫ নভেম্বরের সময়সীমাটি এখনো সম্ভাব্য হিসেবেই জানানো হয়েছে। ফল প্রকাশের নির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত হলে শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!