ছবি: সবুজ নিশান
ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশের (আইইবি) আসন্ন নির্বাচন ঘিরে প্যানেলভিত্তিক প্রচারণার ওপর গঠনতন্ত্রে থাকা বিধিনিষেধ মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুসরণ এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে কমিশন।
সম্প্রতি রাজধানীর রমনাস্থ আইইবির কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জরুরি মতবিনিময় সভায় নির্বাচনী বিধিবিধান নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. সেলিম ভূঁইয়া প্রার্থীদের গঠনতন্ত্র ও নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।
আইইবির গঠনতন্ত্রের ৩০.০৭ ধারায় প্যানেল শিট, লিফলেট কিংবা কার্ড ব্যবহার করে অন্য প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়। নির্বাচনী কার্যক্রমে এ বিধান অনুসরণের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়।
তবে নির্বাচনী বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন কয়েকজন প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী। তাঁদের অভিযোগ, আইইবির অডিটরিয়াম ও কনফারেন্স সেন্টারেও প্যানেল ঘোষণার কার্যক্রম হয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনের কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁদের মতে, গঠনতন্ত্রের বিধান সব প্রার্থীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করা না হলে নির্বাচনে সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
এদিকে আইইবি নির্বাচন সামনে রেখে ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (অ্যাব) প্রার্থী মনোনয়ন প্রক্রিয়া নিয়েও সংগঠনটির একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে বলে জানা গেছে।
অ্যাবের কয়েকজন বঞ্চিত নেতা-কর্মীর অভিযোগ, সংগঠনটির সমর্থিত বিভিন্ন পদ ও কেন্দ্রভিত্তিক প্রার্থী নির্বাচনে যোগ্যতা ও সাংগঠনিক অবদানের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। তাঁদের দাবি, বিগত রাজনৈতিক আন্দোলনে সক্রিয় থাকা প্রকৌশলীদের উপেক্ষা করে অন্যদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
কয়েকজন প্রকৌশলী নেতা আরও অভিযোগ করেছেন, প্রার্থী চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সংশ্লিষ্ট ফোরামগুলোর মতামত যথেষ্ট গুরুত্ব পায়নি।
অ্যাবের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম তুহিনের বিরুদ্ধেও এককভাবে প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের একাংশের নেতা-কর্মীরা। তাঁদের দাবি, আহ্বায়ক কমিটির অনেক সদস্যকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শাহরিন ইসলাম তুহিন কিংবা অ্যাবের দায়িত্বশীল প্রতিনিধিদের বক্তব্য সরবরাহ করা প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
আইইবি নির্বাচনে প্যানেলভিত্তিক প্রচারণা ও প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যে নির্বাচন কমিশনের অবস্থান নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে গঠনতন্ত্রের বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন, অভিযোগ যাচাই এবং সব প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।
নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। কমিশনের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!