যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

জন্মদিনে স্মরণে এটিএম শামসুজ্জামান, পর্দার বহুরূপী সেই শিল্পী

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৩ PM ৭৪
জন্মদিনে স্মরণে এটিএম শামসুজ্জামান, পর্দার বহুরূপী সেই শিল্পী

অভিনেতা এটিএম শামসুজ্জামান। ছবি: ফাইল ছবি

সহকারী পরিচালক হিসেবে চলচ্চিত্রে যাত্রা শুরু করে অভিনয়, চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান।

বাংলা চলচ্চিত্রে এমন কিছু অভিনেতা রয়েছেন, যাদের কোনো একটি চরিত্র দিয়ে চিহ্নিত করা কঠিন। এটিএম শামসুজ্জামান ছিলেন তেমনই একজন। খলনায়ক থেকে কৌতুক চরিত্র, আবার সাহিত্যনির্ভর গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায়ও নিজের অভিনয় দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। আজ ১০ সেপ্টেম্বর তাঁর জন্মদিন।

১৯৪১ সালের এই দিনে নোয়াখালীর দৌলতপুরে জন্ম নেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান। চলচ্চিত্রে দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময়ের পথচলায় তিনি শুধু অভিনেতা হিসেবেই নয়, গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লেখক হিসেবেও কাজ করেছেন। ২০২১ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি মারা যান এই অভিনেতা।

চলচ্চিত্রে তাঁর শুরুটা হয়েছিল ক্যামেরার সামনে থেকে নয়। ১৯৬১ সালে পরিচালক উদয়ন চৌধুরীর ‘বিষকন্যা’ সিনেমায় সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজের মধ্য দিয়ে চলচ্চিত্রে প্রবেশ করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে চলচ্চিত্রের গল্প ও চিত্রনাট্য লেখার কাজেও যুক্ত হন। ‘জলছবি’ সিনেমার কাহিনি ও চিত্রনাট্য লেখার মাধ্যমে লেখক হিসেবেও পরিচিতি পান।

তবে দর্শকের কাছে তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তৈরি হয় অভিনয়ের মাধ্যমে। ১৯৬৮ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতা পরিচালিত ‘এতটুকু আশা’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশ ঘটে। শুরুতে কৌতুক চরিত্রে দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের পরিসর বাড়ান তিনি।

১৯৭৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘নয়নমণি’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয়ের পর তাঁর ক্যারিয়ারে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। এই চরিত্রের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। এরপর ‘লাঠিয়াল’, ‘অশিক্ষিত’, ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ ও ‘স্বপ্নের নায়ক’-এর মতো সিনেমায় খলচরিত্রে অভিনয় করেন।

তবে খলনায়ক চরিত্রেই তাঁর অভিনয় সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘রামের সুমতি’, ‘যাদুর বাঁশি’, ‘ম্যাডাম ফুলি’ ও ‘চুড়িওয়ালা’সহ বিভিন্ন সিনেমায় কৌতুক চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকের হাসির খোরাক হয়েছেন। চরিত্রের ধরন বদলে ফেলার এই সক্ষমতাই তাঁকে সমসাময়িক অনেক অভিনেতার চেয়ে আলাদা জায়গা করে দেয়।

গুরুত্বপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় চরিত্রের তালিকায় রয়েছে ‘ওরা ১১ জন’, ‘সংগ্রাম’, ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, ‘পদ্মা মেঘনা যমুনা’ এবং ‘গেরিলা’। বিশেষ করে ‘সূর্য দীঘল বাড়ী’র মতো সাহিত্যনির্ভর চলচ্চিত্রে তাঁর অভিনয় প্রমাণ করে, কৌতুক কিংবা খলচরিত্রের বাইরেও তিনি শক্তিশালী অভিনয় করতে সক্ষম ছিলেন।

অভিনয়ের স্বীকৃতিও পেয়েছেন একাধিকবার। ‘দায়ী কে?’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘চুড়িওয়ালা’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’ ও ‘চোরাবালি’ সিনেমার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে সম্মানিত হন তিনি। ২০১৫ সালে পান একুশে পদক। দীর্ঘ কর্মজীবনের জন্য পেয়েছেন আজীবন সম্মাননাও।

অভিনয়ের পাশাপাশি নির্মাণেও যুক্ত ছিলেন এটিএম শামসুজ্জামান। ২০০৯ সালে ‘এবাদত’ সিনেমা পরিচালনা করেন তিনি। গল্প ও চিত্রনাট্য লেখাতেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।

শারীরিকভাবে তিনি আজ নেই। কিন্তু পাঁচ দশকের বেশি সময়ের চলচ্চিত্রজীবনে তৈরি করা অসংখ্য চরিত্র, সংলাপ ও অভিনয় তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে। জন্মদিনে তাই নতুন করে ফিরে আসে বহুমাত্রিক এই শিল্পীর চলচ্চিত্রযাত্রার গল্প।

এটিএম শামসুজ্জামান

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!