যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

একের পর এক হুমকি, বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

বিনোদন ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৫৮ PM ৪
একের পর এক হুমকি, বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ

অমিতাভ বচ্চন, সালমান খান ও টাইগার শ্রফসহ বলিউডের একাধিক তারকাকে ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বলিউডের একাধিক তারকার বাড়ি ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিনেতা অমিতাভ বচ্চনের মুম্বাইয়ের জুহু এলাকার বাংলো ‘জলসা’ উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং গায়ক দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টে বোমা হামলার হুমকির খবর সামনে এসেছে। এর আগে নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণ, অভিনেতা রণবীর সিংকে হুমকি এবং টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

গত ১৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় টাইগার শ্রফের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, মোটরসাইকেলে আসা তিন সন্দেহভাজনের মধ্যে দুজন গুলি ছোড়ে। সে সময় ফুটবল খেলে ফিরছিলেন অভিনেতা। হামলায় টাইগার অক্ষত থাকলেও তাঁর গাড়িচালক ও একজন অটোরিকশাচালক আহত হন। গুলি চালানোর পর সন্দেহভাজনরা মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থল ছেড়ে পালিয়ে যায়।

এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজনরা মুম্বাইয়ে এসে প্রথমে সালমান খানের বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের আশপাশে গিয়েছিল। সেখানে পুলিশ ও সশস্ত্র নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি দেখে তারা পরিকল্পনা পরিবর্তন করেছিল কি না, তা তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণার বিষয়। পরে টাইগার শ্রফের চলাফেরা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তারা তাঁর ওপর হামলার পরিকল্পনা করে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও পোস্ট থেকে টাইগারের নিয়মিত ফুটবল খেলার স্থান সম্পর্কে ধারণা পেয়েছিল সন্দেহভাজনরা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, হামলার অন্তত ১০ দিন আগে থেকেই মাঠটির আশপাশে তাদের নজরদারির তথ্য পাওয়া গেছে। ১১ অক্টোবরও সন্দেহভাজনরা সেখানে গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেদিন টাইগার মাঠে না যাওয়ায় কোনো হামলা হয়নি বলে জানা গেছে। এক সপ্তাহ পর, ১৮ অক্টোবর, তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়।

দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মুম্বাইয়ে অবস্থানকালে সন্দেহভাজন তিন ব্যক্তি সালমান খানের পাশাপাশি আমির খান ও রণবীর সিংয়ের বাড়ির আশপাশেও গিয়েছিল। তবে এসব তারকাকে হামলার লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো কারণে সেখানে যাওয়া হয়েছিল, তা পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্তে সন্দেহভাজনদের গুগলে তারকাদের বাড়ির ঠিকানা খোঁজা এবং পরে অটোরিকশা বা মোটরসাইকেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যাওয়ার তথ্যও সামনে এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনার আগেই নির্মাতা রোহিত শেঠির বাড়িতে গুলিবর্ষণ এবং রণবীর সিংকে চাঁদা দাবি করে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। এর সঙ্গে অমিতাভ বচ্চনের বাংলো ও দিলজিৎ দোসাঞ্জের কনসার্টে হামলার হুমকির খবর যুক্ত হওয়ায় তারকাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।

বিষয়টি নিয়ে অভিনেতা মনোজ বাজপেয়ি প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রজগৎ দীর্ঘদিন ধরে অপরাধীচক্রের সহজ লক্ষ্য হয়ে রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। অন্য তারকাদের ওপর হামলার কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ফলে তদন্তের অগ্রগতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বলিউডে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

টাইগার শ্রফের গাড়িতে গুলির ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোইয়ের নামও আলোচনায় এসেছে। হামলার পর বিষ্ণোইচক্রের নামে প্রচারিত একটি বার্তায় হামলার দায় স্বীকারের পাশাপাশি সালমান খানের সঙ্গে কাজ করা অন্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বার্তাটির সত্যতা নিশ্চিত নয়। লরেন্স বিষ্ণোই নিজে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন—এমন তথ্যও এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়।

১৯৯৩ সালে পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া লরেন্স বিষ্ণোই আবোহার এলাকায় বেড়ে ওঠেন এবং পরে পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে যান। ডিএভি কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্ররাজনীতিতে যুক্ত হন। পরবর্তী সময়ে গোল্ডি ব্রারের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর বিভিন্ন হামলা, হত্যাচেষ্টা ও চাঁদাবাজির মামলায় তাঁর নাম জড়িয়ে পড়ে।

সালমান খানের সঙ্গে বিষ্ণোইয়ের বিরোধের পেছনে ১৯৯৮ সালের কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়। রাজস্থানে ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’ ছবির শুটিং চলাকালে সালমানের বিরুদ্ধে দুটি কৃষ্ণসার হরিণ হত্যার অভিযোগ ওঠে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে এই প্রাণী পবিত্র হিসেবে বিবেচিত। ২০১৮ সালে ওই মামলায় সালমান খানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়; পরে তিনি জামিন পান। একই বছর লরেন্স বিষ্ণোই প্রকাশ্যে তাঁকে হত্যার হুমকি দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তী সময়েও সালমানকে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়ে হুমকি দেওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে।

তবে সাম্প্রতিক গুলিবর্ষণ ও হামলার হুমকিগুলোর মধ্যে কারা জড়িত, কোন তারকাকে লক্ষ্য করে কী পরিকল্পনা করা হয়েছিল এবং ঘটনাগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগসূত্র আছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর তদন্তের ওপর নির্ভর করছে।

বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!