যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু ঝুঁকিতে মানবাধিকার, সুরক্ষায় রোডম্যাপ চায় নাগরিক সমাজ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৬ PM ৮৮
জলবায়ু ঝুঁকিতে মানবাধিকার, সুরক্ষায় রোডম্যাপ চায় নাগরিক সমাজ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠী নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে মানবাধিকার সুরক্ষায় একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ তৈরি, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মিতভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টার ইন-এ ‘বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত মানবাধিকার লঙ্ঘন থেকে সুরক্ষায় ইউপিআর-৪ সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা’ শীর্ষক জাতীয় অ্যাডভোকেসি সেমিনারে এসব কথা উঠে আসে। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি), অ্যাকশন এগেইনস্ট হাঙ্গার (এসিএফ) এবং ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশ যৌথভাবে আয়োজন করে এ সেমিনার। এতে নীতিনির্ধারক, মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেমিনারে জাতিসংঘের চতুর্থ সর্বজনীন পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনা বা ইউপিআর-৪ প্রক্রিয়ায় সরকার সমর্থিত জলবায়ু-সম্পর্কিত সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে বাস্তবায়নে থাকা ঘাটতিগুলো চিহ্নিত করে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে মানুষের অধিকার রক্ষায় ভবিষ্যৎ নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন অংশগ্রহণকারীরা।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী ও ক্লাইমেট জাস্টিস অ্যালায়েন্স-বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়ক মো. শামসুদ্দোহা জানান, ২০১৮ সালে বাংলাদেশের তৃতীয় ইউপিআর চক্রে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা ও প্রশমনের বিষয়ে সরকার দুটি সুপারিশ সমর্থন করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে চতুর্থ ইউপিআর চক্রে সিপিআরডির নেতৃত্বে ১৫টি নাগরিক সংগঠনের জোট একটি যৌথ প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরার পাশাপাশি সাতটি বিষয়ে কৌশলগত পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ থেকে ২০২৭ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য সরকার ১২টি সুপারিশ গ্রহণ করে।

শামসুদ্দোহা বলেন, সরকারের নেওয়া অঙ্গীকারগুলো বাস্তবে কতটা নীতি, কর্মসূচি ও কার্যকর পদক্ষেপে রূপ নিয়েছে, তা পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। পাশাপাশি বাস্তবায়নের দুর্বল জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো দূর করার উপায় বের করাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. নূরুন নাহার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঝুঁকি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও সম্মুখসারির জনগোষ্ঠীর ওপর। আন্তর্জাতিক পর্যায়েও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন মোকাবিলায় এখনো যথেষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সিপিআরডির প্রোগ্রাম ম্যানেজার—রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি শেখ নূর আতায়া রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এতে তৃতীয় ইউপিআর চক্রের পর থেকে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে ইউপিআর-৪ চক্রে দেওয়া সুপারিশ এবং সেগুলোর বাস্তবায়নের অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।

সেমিনারের বিশেষ অতিথি পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও পিকেএসএফের সাবেক উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ফজলে রাব্বি সাদেক আহমেদ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। তার মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় নিয়মিত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত অ্যাডভোকেসি জোরদার করা প্রয়োজন।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, এমবিই, জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় নাগরিক সমাজের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। এ ক্ষেত্রে মানবাধিকারকর্মী, জলবায়ু বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, গবেষক ও নাগরিক সমাজের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন বলেও তিনি মত দেন।

পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. জিয়াউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি নিয়ে সরকারের উদ্বেগ রয়েছে। তবে মানুষের অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরও বাড়ানো দরকার। এ কাজে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও নাগরিক সমাজের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

সেমিনারের প্যানেল আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তন ও মানবাধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নীতিগত ও বাস্তবায়ন ঘাটতি নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ, ইউপিআর সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং নীতিনির্ধারণ ও জনমত গঠনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য নাগরিক সমাজের একটি প্ল্যাটফর্ম গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় পরবর্তী কর্মকৌশল নির্ধারণে একটি কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথাও জানানো হয়।

জলবায়ু মানবাধিকার

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!