যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

জলবায়ু উদ্যোগে পিএমআইয়ের পুরস্কার পেল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:১৬ PM ৮২
জলবায়ু উদ্যোগে পিএমআইয়ের পুরস্কার পেল ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প

পিএমআইয়ের সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্ত; ছবি : সবুজ নিশান

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ততা ও আঞ্চলিক সহযোগিতায় কাজ করার স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলাদেশ থেকে পরিচালিত ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প (আইসিসি)। ২০২৬ সালের ‘সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার’ পুরস্কার দিয়েছে বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের (পিএমআই) বাংলাদেশ চ্যাপ্টার।

ঢাকার র‍্যাডিসন ব্লু ওয়াটার গার্ডেন হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে ২৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ উদ্যোগটি ‘প্রজেক্ট অব দ্য ইয়ার (সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট—স্মল প্রজেক্ট)’ বিভাগে এই স্বীকৃতি পায়।

ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্পের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা তরুণদের একত্র করা, বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি এবং স্থানীয় পর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণী আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব কর্মকাণ্ডের স্বীকৃতি হিসেবেই পুরস্কারটি দেওয়া হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, এশিয়ান পিপলস মুভমেন্ট অন ডেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এপিএমডিডি), ল্যান্ড আওয়ার ফিউচার নেপাল, সেন্টার ফর অ্যাটমোস্ফেরিক পলিউশন স্টাডিজ (ক্যাপস) এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।

এ উদ্যোগে নেদারল্যান্ডস দূতাবাস, ক্লাইমেট অ্যাকশন নেটওয়ার্ক সাউথ এশিয়া, প্রাইড পাকিস্তান ও শেরা নেটওয়ার্কসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সহযোগিতা করেছে। পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ত্রিভুবন বিশ্ববিদ্যালয়, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয় এবং স্কটল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ডান্ডির বিঙ্কস ইনস্টিটিউট অব সাসটেইনেবিলিটিও বিভিন্নভাবে এর সঙ্গে যুক্ত ছিল।

দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজিত ক্যাম্পের এবারের আসর ৭ থেকে ১১ জুলাই নেপালের কাঠমান্ডু ও পোখরায় অনুষ্ঠিত হয়। এতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ থেকে ২০০ জনের বেশি তরুণ প্রতিনিধি, গবেষক, পরিবেশকর্মী ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ অংশ নেন। তরুণ নেতৃত্বের বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং জলবায়ু মোকাবিলায় যৌথ কর্মপরিকল্পনা তৈরিই ছিল আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

ক্যাম্পে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে নীতিনির্ধারকদের সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগও রাখা হয়। এতে নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশমন্ত্রী গীতা চৌধুরী, দেশটির চার সংসদ সদস্য এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক যুব উপদেষ্টা ফারজানা ফারুক ঝুমুসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কেবল আলোচনা বা কর্মশালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না ক্যাম্পের কার্যক্রম। অংশগ্রহণকারীরা নেপালের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে জলবায়ু অভিযোজন ও পরিবেশ সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর উদ্যোগ সরাসরি দেখার সুযোগ পান। ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী কৃষকদের সৌরবিদ্যুৎ ও জৈব সার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তাঁরা পর্যবেক্ষণ করেন। পাশাপাশি বান্দিপুরে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন।

পাহাড়ি এলাকায় যাতায়াতের সময় বাসের মধ্যেও জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়। পরে পোখরা বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘অ্যাকশন ল্যাব’-এ জলবায়ু রাজনীতি, প্রকৃতিভিত্তিক সমাধান, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা, শিল্পদূষণ ও যুব নেতৃত্বসহ বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করেন অংশগ্রহণকারীরা।

ক্যাম্পের আলোচনার ভিত্তিতে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ দেশে বাস্তবায়নের উপযোগী প্রচার ও কর্মপরিকল্পনাও তৈরি করেন। আয়োজকদের মতে, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অভিজ্ঞতার সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের জলবায়ু নীতির আলোচনার একটি যোগসূত্র তৈরিতে এই উদ্যোগ ভূমিকা রেখেছে।

পুরস্কার পাওয়ার পর মিশন গ্রিন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, পিএমআই বাংলাদেশের এই স্বীকৃতি তাঁদের কাজের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম থেকে নীতিনির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত কাজের যে কাঠামো তাঁরা তৈরি করেছেন, পুরস্কারটি তার স্বীকৃতি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আহসান রনির ভাষ্য, জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা এশিয়ার তরুণদের শুধু সংকটের দর্শক হিসেবে দেখলে হবে না; সমাধান তৈরির ক্ষেত্রেও তাঁদের অংশীদার করতে হবে। এই ধারণা থেকেই ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। তাঁর মতে, পুরস্কারটি ক্যাম্পের অংশীদার, পরামর্শক এবং ২০০ জনের বেশি তরুণ প্রতিনিধির সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল।

স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও ক্যাপসের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদার বলেন, এই স্বীকৃতি ব্যবহারিক বিজ্ঞান, গবেষণা এবং তরুণদের নাগরিক অংশগ্রহণকে একসঙ্গে কাজে লাগানোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বায়ুদূষণ থেকে হিমালয়ের হিমবাহ গলে যাওয়ার মতো জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআরের ডেপুটি ডিরেক্টর রউফা খানম বলেন, জলবায়ু অভিযোজনের উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নেতৃত্বে, তথ্যনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হওয়া প্রয়োজন। ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে সংযোগ তৈরির একটি সুযোগ তৈরি করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় তরুণ ও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং ভবিষ্যৎ জলবায়ু নেতৃত্ব তৈরি করতে এ ধরনের আঞ্চলিক উদ্যোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

আয়োজকদের আশা, পিএমআইয়ের এই স্বীকৃতি ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্পের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম সম্প্রসারণে উৎসাহ জোগাবে। একই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু শিক্ষা, তরুণ নেতৃত্ব ও আন্তঃদেশীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার সুযোগ তৈরি হবে।

জলবায়ু নেদারল্যান্ডস দূতাবাস সোশ্যাল ইমপ্যাক্ট ইন্টারন্যাশনাল ক্লাইমেট ক্যাম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!