যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

শৈশবের দারিদ্র্য নিয়ে বিতর্কে ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিবেশীদের পাল্টা দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:৫৮ AM | সর্বশেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ PM ৬৫
শৈশবের দারিদ্র্য নিয়ে বিতর্কে ব্রিটিশ শিক্ষামন্ত্রী, প্রতিবেশীদের পাল্টা দাবি

শৈশবের জীবন নিয়ে দেওয়া বক্তব্য ঘিরে বিতর্কে যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রিজেট ফিলিপসন তার শৈশবকে দারিদ্র্য ও বঞ্চনার মধ্য দিয়ে কাটানোর যে বর্ণনা দিয়েছেন, তা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যকে ‘অতিরঞ্জিত’ এবং ‘বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়’ বলে দাবি করেছেন তার কয়েকজন সাবেক প্রতিবেশী।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য মেইল অন সানডে–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিলিপসনের পরিবার একসময় কাউন্সিলের একটি বাড়ি কিনে পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্য মুনাফায় সেটি বিক্রি করে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাড়িটি বিক্রির সময় এর মূল্য ক্রয়মূল্যের তুলনায় প্রায় ৯০০ শতাংশ বেড়েছিল।

এর প্রতিক্রিয়ায় টাইমস রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ব্রিজেট ফিলিপসন অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের টাইন অ্যান্ড ওয়্যারের ওয়াশিংটন এলাকায় তার মা ১৯৯০ সালে বাড়িটি কিনেছিলেন। সে সময় বাড়িটি অত্যন্ত জরাজীর্ণ ছিল এবং বহু বছর কোনো সংস্কার করা হয়নি। এমনকি বাড়ির জানালাগুলোও পচে গিয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে একই এলাকায় দীর্ঘদিন বসবাসকারী কয়েকজন প্রতিবেশী তার এই বর্ণনার সঙ্গে একমত নন।

১৯৮৯ সাল থেকে ওই সড়কে বসবাসকারী ট্রেসি মরগান বলেন, বাড়িগুলোতে প্রয়োজনীয় গরমের ব্যবস্থা ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওপরতলায় বৈদ্যুতিক হিটার এবং নিচতলায় ব্যাক বয়লারচালিত রেডিয়েটরের মাধ্যমে তাপ সরবরাহ করা হতো।

তিনি আরও বলেন, ওই এলাকায় বাড়ির জানালা পচে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা তার মনে পড়ে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক সাবেক প্রতিবেশীও ফিলিপসনের বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তার দাবি, বাড়িগুলো পুরোনো হলেও সেগুলো মোটের ওপর ভালো অবস্থাতেই ছিল এবং শিক্ষামন্ত্রীর বর্ণনায় কিছু বিষয় অতিরঞ্জিত বলে মনে হয়।

জানা গেছে, ক্লেয়ার ফিলিপসন ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে ওই এলাকায় বসবাস শুরু করেন। ১৯৮৩ সালে জন্ম নেওয়া ব্রিজেট ফিলিপসন সেখানেই বেড়ে ওঠেন। পরে ২০০৬ সালে তিনি তার স্বামী লরেন্স ডাইমেরি–র সঙ্গে আরেকটি সাবেক কাউন্সিল বাড়ি কেনেন এবং ২০১৬ সালে সেটি বিক্রি করে দেন।

ফিলিপসনের শৈশব নিয়ে দেওয়া বক্তব্য এবং প্রতিবেশীদের পাল্টা দাবির পর বিষয়টি যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কার্যালয় থেকে নতুন করে কোনো মন্তব্য জানানো হয়নি।

তথ্যসূত্র: দ্য মেইল অন সানডে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!