যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে বছরে ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৪৬ PM ৭৫
পাকিস্তানে ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়, অপুষ্টিতে বছরে ক্ষতি ১৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি

ছবি: ডন

পাকিস্তানে পাঁচ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০ শতাংশ শিশু খর্বকায়। শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি পুষ্টিহীনতার কারণে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দেশটির অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে। এ কারণে পাকিস্তানের বছরে ১৭০০ কোটি ডলারের বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে তরুণ জনগোষ্ঠীকে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে দেখা হলেও শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি সেই সম্ভাবনার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। শৈশবেই বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে কর্মজীবনে প্রবেশের আগেই একটি বড় জনগোষ্ঠী পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর পর্যাপ্ত পুষ্টির ঘাটতি, শিশুকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রে যথাযথ পদ্ধতি অনুসরণ না করা, বারবার সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হওয়া এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ শিশুদের খর্বকায় হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাজেটে সংকট দেখা দিলে শিক্ষা ও জনস্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমানোকে অনেক সময় স্বল্পমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হয়। তবে এসব খাতে বিনিয়োগের ঘাটতির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রয়েছে।

শৈশবে পুষ্টির অভাবের কারণে শারীরিক ও মানসিক বিকাশে যে ক্ষতি হয়, তা শুধু একজন ব্যক্তির জীবনেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এর প্রভাব পরবর্তী প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানে শিশু অপুষ্টির পাশাপাশি মাতৃস্বাস্থ্যের পরিস্থিতিও উদ্বেগের। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতি ১ লাখ জীবিত শিশু প্রসবে ১৫৫ জন মায়ের মৃত্যু হয়।

পাকিস্তানের মা ও শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতির উন্নয়নে ‘অ্যাক্ট ফর নিউট্রিশন’ নামে একটি বৈশ্বিক প্রচারাভিযান ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে।

আগামী ২ ও ৩ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠেয় এই সম্মেলনে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার প্রতিনিধি, পুষ্টি ও সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন প্রাদেশিক সরকারের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

সম্মেলনের মূল লক্ষ্য হিসেবে দারিদ্র্য, মা ও শিশুর খাদ্যাভ্যাস, দুর্বল শাসনব্যবস্থা, পুষ্টি খাতে অপ্রতুল বিনিয়োগ এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলার মাধ্যমে কার্যকর সমাধান খোঁজার কথা বলা হয়েছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!