কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি। ছবি : এএফপি
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও আত্মনির্ভর হওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আবুধাবিতে হিলি ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেন, উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তায় আন্তর্জাতিক বাহিনী ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু এসব ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
মাজেদ আল-আনসারির মতে, উপসাগরীয় দেশগুলোর নিজেদের নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ানোর দিকে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতা অর্জনকেই তিনি সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনায় কাতারসহ উপসাগরীয় দেশগুলো আগে নিন্দা জানিয়েছে। এসব হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন বলেও তারা অভিযোগ করেছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত কমাতে কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করেছিল। তাদের উদ্যোগে এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি এবং জুনে একটি সমঝোতা স্মারক হয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে উভয় ব্যবস্থাই ভেঙে যায়।
এরপর প্রায় এক মাস তুলনামূলক শান্ত থাকার পর প্রায় এক সপ্তাহ আগে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার মধ্য দিয়ে সংঘাতের নতুন পর্যায় শুরু হয়েছিল। সংঘাত থামাতে কূটনৈতিক আলোচনা হলেও পরে তা ভেঙে পড়ে।
এরই মধ্যে দক্ষিণ ইরানে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলায় চারজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও ছিল। ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ঘটনায় আরও কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন।
সূত্র : মিডলইস্ট মনিটর
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!