যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

হৈচৈ করতে নিষেধ করায় ভারতে সংগীতশিল্পীকে পিটিয়ে হত্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫৪ PM ৬৭
হৈচৈ করতে নিষেধ করায় ভারতে সংগীতশিল্পীকে পিটিয়ে হত্যা

ভারতের সংগীতশিল্পী চোংথাম বিক্রম সিং। ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে উচ্চ শব্দে হৈচৈ করতে নিষেধ করাকে কেন্দ্র করে হামলায় চোংথাম বিক্রম সিং (৫৪) নামে এক সংগীতশিল্পী নিহত হয়েছেন। রোববার গভীর রাতে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির কিলোকারি এলাকায় নিজের ভাড়া বাসার সামনে তাঁকে মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর সোমবার সকালে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় সাতজন প্রাপ্তবয়স্ককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকেও আটক করা হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ময়লা ফেলতে বাসার নিচে নেমেছিলেন বিক্রম সিং। এ সময় কাছের দুটি ধাবার কয়েকজন কর্মচারী উচ্চ শব্দে চিৎকার ও হৈচৈ করছিলেন। শব্দ কমাতে বললে তাঁদের সঙ্গে বিক্রমের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে ওই ব্যক্তিরা তাঁকে ধাওয়া করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে। আত্মরক্ষার জন্য বিক্রম নিজের ফ্ল্যাটের দিকে দৌড়ে গেলেও হামলাকারীরা ভবনের করিডোর পর্যন্ত তাঁর পিছু নেয়। সেখানে তাঁকে ঘিরে লাথি, ঘুষি ও চড়-থাপ্পড় মারা হয়।

একপর্যায়ে গুরুতর আহত অবস্থায় বিক্রমকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত নজরদারির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন ধাবার কর্মচারী এবং একজন পিৎজা বিক্রয়কেন্দ্রের কর্মী রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিহত বিক্রম সিং মণিপুরের পরিচিত গিটারিস্ট ছিলেন। হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে তাঁকে পশ্চিমা সংগীতচর্চার অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রায় ১৭ বছর ধরে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছিলেন এবং একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সংগীত শিক্ষক হিসেবে কাজ করতেন।

হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোমবার সন্ধ্যায় কিলোকারি এলাকায় মোমবাতি মিছিল করেছেন উত্তর-পূর্ব ভারতের শতাধিক মানুষ। তাঁরা দ্রুত বিচার এবং ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান।

ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন মণিপুরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী এন বীরেন সিং। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

পুলিশের তদন্তে হামলার ঘটনায় আরও কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় কি না এবং হত্যাকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ কী ছিল, তা তদন্ত শেষ হলে আরও পরিষ্কার হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!