যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ইসরায়েলি বসতিতে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা, আপত্তি জানায়নি ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫১ PM ৬০
ইসরায়েলি বসতিতে ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞা, আপত্তি জানায়নি ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: ফাইল

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নেওয়া নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপে প্রকাশ্যে বাধা দেয়নি ট্রাম্প প্রশাসন।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ ঠেকাতে যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নেওয়া নতুন পদক্ষেপে সরাসরি বিরোধিতা করেনি যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্মকর্তা ও পশ্চিমা কূটনীতিকদের বরাত দিয়ে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেওয়ার আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিষয়টি জানিয়েছিলেন।

পশ্চিম তীরের বসতি সম্প্রসারণকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বসতিগুলো থেকে পণ্য আমদানির ওপরও নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যুক্তরাজ্যের সঙ্গে কানাডা, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, আইসল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্পেন ও সুইডেনও এই উদ্যোগে যুক্ত হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকারের এ সিদ্ধান্তের পেছনে পশ্চিম তীরের ‘ই-ওয়ান’ এলাকায় ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণের পরিকল্পনাকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, ওই এলাকায় বসতি নির্মাণ ফিলিস্তিনের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা এবং ভূখণ্ডের ধারাবাহিকতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ সম্পর্কে ওয়াশিংটন অবগত ছিল বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি ব্রিটিশ সিদ্ধান্তের সরাসরি সমালোচনা করেননি। পশ্চিম তীরে সহিংসতা কমানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অভিন্ন লক্ষ্য রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।

অন্যদিকে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি ব্রিটিশ পদক্ষেপের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি নিষেধাজ্ঞাকে ইহুদিদের প্রতি বৈষম্যমূলক হিসেবে আখ্যা দেন। তবে হোয়াইট হাউস হাকাবির বক্তব্যকে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক অবস্থান হিসেবে গ্রহণ করেনি এবং তাঁর মন্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রেখেছে।

ব্রিটিশ নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলও পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে পূর্ব জেরুজালেমে ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গাজা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সমন্বয় কার্যক্রমে থাকা ব্রিটিশ প্রতিনিধিদের বিষয়ে পদক্ষেপ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের বাহিনীকে দেওয়া ব্রিটিশ প্রশিক্ষণ বন্ধের কথাও জানানো হয়েছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার ব্রিটিশ পদক্ষেপকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সিদ্ধান্ত ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল। ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সমন্বয় করেই নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

এদিকে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞার অর্থনৈতিক প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে বলে আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পশ্চিম তীরের বসতিগুলো থেকে রপ্তানি হওয়া পণ্যের পরিমাণ ইসরায়েলের সামগ্রিক রপ্তানির তুলনায় খুবই কম। তবে কূটনৈতিকভাবে এ পদক্ষেপের তাৎপর্য বেশি বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের এই অবস্থান দেশটির ইসরায়েল নীতিতে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিচ্ছে। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড বসতি সম্প্রসারণকে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের জন্য হুমকি হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু কর্মকর্তা এই নীতির সমালোচনা করেছেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!