যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে ভেনেজুয়েলার ৩১ টন সোনা, চলছে সমঝোতার আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:০৯ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১০ PM ৫১
লন্ডন থেকে নিউইয়র্কে ভেনেজুয়েলার ৩১ টন সোনা, চলছে সমঝোতার আলোচনা

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সুরক্ষিত ভল্টে থাকা ভেনেজুয়েলার বিপুল সোনার মজুত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানান্তরের বিষয়ে আলোচনা চলছে। প্রায় ৩১ টন সোনার এই মজুতের মূল্য প্রায় ৪৯ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। দেশটির সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের পর এ বিষয়ে সমঝোতার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আলোচনার সঙ্গে যুক্ত চারজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সোনা স্থানান্তরের বিষয়ে চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করতে কারিগরি কিছু বিষয় নিয়ে আরও আলোচনা প্রয়োজন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, লন্ডনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে থাকা সোনা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে নেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে এই সোনা কীভাবে ব্যবহার করা যাবে, তা নিয়েও বিভিন্ন শর্ত নির্ধারণের কথা রয়েছে।

ভেনেজুয়েলার সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে প্রায় সাত বছর ধরে বিরোধ চলছে। ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ কয়েকটি দেশ বিরোধী নেতা হুয়ান গুয়াইদোকে ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর এই বিরোধ আরও জটিল হয়। পরে সোনার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের আইনি লড়াই যুক্তরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।

সম্ভাব্য সমঝোতা কার্যকর হলে দীর্ঘদিনের এই বিরোধের অবসানের পথ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে চলমান আলোচনার একটি বাস্তব ফল হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে।

তবে সোনার ব্যবহার নিয়ে বিরোধীদের পক্ষ থেকে কঠোর নিয়ন্ত্রণের দাবি রয়েছে। দেশটির অর্থনীতিতে দুর্নীতি ও ভুল ব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে তারা সোনার মজুত যাতে অপব্যবহার না হয়, তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বিধিনিষেধের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

সম্ভাব্য ব্যবস্থায় সোনা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তর করা হলেও তা সরাসরি ডেলসি রদরিগেজের নিয়ন্ত্রণে থাকবে না বলে জানা গেছে। সোনা ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা থাকতে পারে। ফলে ভেনেজুয়েলার সরকার ইচ্ছামতো এই সোনা ব্যবহার বা বিক্রি করতে পারবে না।

এর আগে জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো আটক হওয়ার পর দেশটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ নতুন করে সক্রিয় হয়। পরে ডেলসি রদরিগেজ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে সরকার পরিচালনা করছেন।

এরই মধ্যে ভেনেজুয়েলা যুক্তরাজ্যের সঙ্গেও কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। চলতি সপ্তাহে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভেনেজুয়েলার নতুন করে সম্পৃক্ত হওয়ার ধারাবাহিকতায় সোনা স্থানান্তরের উদ্যোগটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!