যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

আলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাত শর্ত, যুদ্ধ নিয়ে কঠোর বার্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৬ PM ৪৯
আলোচনায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের সাত শর্ত, যুদ্ধ নিয়ে কঠোর বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের অবসান ও নতুন করে আলোচনায় বসার জন্য কাতারের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের কাছে সাতটি শর্ত পাঠানোর কথা জানিয়েছে ইরান। শর্তগুলো না মানলে ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত থাকার কথা বলেছেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধাবস্থা অবসানের লক্ষ্যে কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে সাত দফা শর্ত পাঠিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসিন রেজাই জানিয়েছেন, এসব শর্ত মেনে নেওয়া হলে আলোচনার পথ খুলতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র তা প্রত্যাখ্যান করলে ইরান ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজাই বলেন, কাতারি মধ্যস্থতাকারীরা ইতোমধ্যে তেহরানের শর্তগুলো ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দিয়েছেন। এখন তারা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, বিদেশে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় এবং নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার।

রেজাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনায় ফেরার বার্তা স্পষ্ট। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমান সংকট থেকে বের হতে চাইলে তেহরানের অধিকার ও শর্ত মেনে নেওয়াই তাদের জন্য উপযোগী হবে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুমকি কোনো ফল দেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আল জাজিরাকে রেজাই বলেন, ইরান সম্ভাব্য ‘চূড়ান্ত যুদ্ধের’ জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। তবে এই বক্তব্যের পাশাপাশি কূটনৈতিক যোগাযোগও চলছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগের সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরুর জন্য কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

সম্ভাব্য নতুন মার্কিন হামলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেননি রেজাই। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতের অভিজ্ঞতা থেকে ইরান নিজেদের সামরিক কৌশলে পরিবর্তন এনেছে। পারস্য উপসাগর, ওমান উপসাগর ও আরব সাগরে থাকা মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে প্রতিরোধ ব্যবস্থা সাজানোর কথা জানান তিনি।

রেজাই আরও দাবি করেন, সম্প্রতি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের কাছাকাছি একাধিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম দূরপাল্লার জাহাজবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে ইরান। ভবিষ্যতে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশটির বাণিজ্যিক স্বার্থ ও স্থানীয় কোম্পানিগুলোও ইরানের পাল্টা জবাবের আওতায় আসতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

যুদ্ধের অবসান প্রসঙ্গে রেজাইয়ের বক্তব্য, বাস্তব পরিস্থিতিতে সংঘাত এখনো শেষ হয়নি। তবে দ্রুত যুদ্ধাবস্থার অবসান ঘটাতে তেহরান কৌশলগতভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। রেজাই জানান, পরমাণু অস্ত্র অপ্রসারণ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি তেহরান। তবে ওয়াশিংটনের বৈরী নীতি অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি বদলাতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানের বর্তমান পারমাণবিক নীতি বহাল রয়েছে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিরোধিতায় দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় ফতোয়া অনুসরণ করা হচ্ছে বলে পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!