যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ভারত-জাপান বুলেট ট্রেন প্রকল্পে অচলাবস্থা, ১১ বছরেও শুরু হয়নি যাত্রী চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০০ PM ৪৮
ভারত-জাপান বুলেট ট্রেন প্রকল্পে অচলাবস্থা, ১১ বছরেও শুরু হয়নি যাত্রী চলাচল

ছবি:সংগৃহীত

ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেন প্রকল্পে দীর্ঘ ১১ বছর পরও যাত্রী চলাচল শুরু হয়নি। মুম্বাই-আহমেদাবাদ উচ্চগতির রেল প্রকল্প ঘিরে ভারত ও জাপানের মধ্যে প্রযুক্তি, ব্যয়, সরঞ্জাম কেনা এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে মতবিরোধ ক্রমেই প্রকাশ্য হচ্ছে।

২০১৫ সালে ভারতের সঙ্গে জাপান এই প্রকল্পে প্রায় ৯৮০ বিলিয়ন রুপির চুক্তি করে। প্রকল্পের অর্থায়নে জাপান ৫০ বছরের মেয়াদে মাত্র ০.১ শতাংশ সুদের ঋণের ব্যবস্থা করে। শুরুতে ২০২৩ সালের মধ্যে রেলপথ চালুর লক্ষ্য থাকলেও জমি অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়।

৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বাই-আহমেদাবাদ করিডরের সম্ভাব্য ব্যয়ও বেড়েছে। সরকারি হিসাবে এখন প্রকল্পটির ব্যয় অন্তত ১.৮৭ ট্রিলিয়ন রুপিতে পৌঁছেছে।

সম্প্রতি প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে জাপানের পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। জাপানের সাবেক বিচারমন্ত্রী হিদেকি মাকিহারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের ধীরগতির জন্য ভারতীয় পক্ষকে দায়ী করেন। জাপানি কর্মকর্তাদের অভিযোগ, চুক্তির কাঠামো উপেক্ষা করে ভারতের পক্ষ থেকে রেল সিগন্যালিংয়ের গুরুত্বপূর্ণ কাজ জার্মান প্রতিষ্ঠান সিমেন্সকে দেওয়া হয়েছে।

জাপানের অবস্থান হলো, বুলেট ট্রেনের নিরাপত্তা ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করতে ট্রেন, রেললাইন ও সিগন্যালিংসহ পুরো ব্যবস্থাকে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা প্রয়োজন। বিপরীতে ভারত প্রযুক্তি স্থানীয়ভাবে উৎপাদন, দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রকল্পের ব্যয় কমানোর ওপর বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

এই মতপার্থক্যের কারণে জাপানি কোম্পানিগুলোর মধ্যেও হতাশা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, জাপানি প্রযুক্তির সঙ্গে ইউরোপীয় সিগন্যালিং ব্যবস্থা এবং ভারতীয় ট্রেন ব্যবহারের যে সমন্বিত কাঠামো তৈরি হচ্ছে, সেটি আগে বড় পরিসরে পরীক্ষিত নয়।

ভারত জানিয়েছে, প্রকল্পের প্রথম অংশ আগামী গ্রীষ্মে চালুর লক্ষ্য রয়েছে। তবে শুরুতে পুরো ৫০৮ কিলোমিটার নয়, সীমিত অংশে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ভারতীয় কর্মকর্তাদের মতে, প্রথম পর্যায়ের নির্মাণকাজ ২০২৭ সালের শুরুতে শেষ হতে পারে।

তবে জাপানের নতুন প্রজন্মের ই১০ বুলেট ট্রেন সরবরাহের সময় নিয়ে নতুন জটিলতা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ভারতীয় কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রেন সরবরাহ ২০৩০-এর দশকের শুরু পর্যন্ত গড়াতে পারে। ফলে অবকাঠামো প্রস্তুত হওয়ার সঙ্গে ট্রেন সরবরাহের সময়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মুম্বাই-আহমেদাবাদ করিডর শুধু দ্রুতগতির যোগাযোগ ব্যবস্থা নয়, ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ উদ্যোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভারত ভবিষ্যতে উচ্চগতির রেল প্রযুক্তির আরও বেশি অংশ দেশে উৎপাদন করতে চায়।

দেশটির রেল মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে আরও সাতটি উচ্চগতির রেল করিডর চিহ্নিত করেছে। এসব প্রকল্পের সম্মিলিত দৈর্ঘ্য প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার। ভারত এসব করিডরে বিপুল বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিকল্পনা করছে।

আহমেদাবাদ-মুম্বাই রুটে বর্তমানে ভারতীয় তৈরি বন্দে ভারত ট্রেন চলাচল করছে। তবে এটি বুলেট ট্রেনের মতো ঘণ্টায় ৩০০ কিলোমিটারের বেশি গতির উচ্চগতির রেলব্যবস্থা নয়।

বুলেট ট্রেন প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধ থাকলেও ভারত ও জাপানের কৌশলগত সম্পর্কের গুরুত্ব কমছে না। এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রেক্ষাপটে দুই দেশ অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহী।

ফলে মুম্বাই-আহমেদাবাদ বুলেট ট্রেন প্রকল্পে অচলাবস্থা তৈরি হলেও ভারত-জাপান সম্পর্কের বৃহত্তর স্বার্থে দুই পক্ষের সমঝোতার সম্ভাবনা রয়েছে।

ভারত-জাপান বুলেট ট্রেন জাপান ভারত রেল প্রকল্প

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!