যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ফেসবুক মন্তব্যে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ক্ষমা চাইল পরিবার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১৫ PM ৩৯
ফেসবুক মন্তব্যে সৌদিতে শ্রীলঙ্কান যুবকের মৃত্যুদণ্ড, ক্ষমা চাইল পরিবার

ছবি:সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্যের অভিযোগে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ড পেয়েছেন ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান নাগরিক। সাজা থেকে রেহাই পেতে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে ক্ষমার আবেদন জানানো হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ওই ব্যক্তি আনোজান শিভারাসা সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর মা রাসামানিক্কাম যোগালক্ষ্মী ছেলের পক্ষ থেকে ক্ষমা চেয়ে তাকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় বিতর্ককে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনার সূত্রপাত হয়। জুনের শেষ দিকে তীর্থযাত্রীদের সামনে এক তরুণ মুসলিম ব্যক্তির একটি কুকুরকে লাথি মারার ভিডিও অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ঘিরে বিভিন্ন ধর্ম নিয়ে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য শুরু হয়।

একপর্যায়ে এক ব্যক্তি হিন্দু ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করলে আনোজান তামিল ভাষায় মহানবীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরে তিনি মন্তব্যটি সরিয়ে ফেলেন এবং একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চান। কিন্তু মন্তব্যটির স্ক্রিনশট তাঁর কর্মস্থলে পাঠানো হয়। এরপর তাঁর নিয়োগকর্তার মাধ্যমে বিষয়টি সৌদি কর্তৃপক্ষের নজরে আসে বলে তাঁর পরিবারের সদস্যদের দাবি।

প্রথম পর্যায়ে সৌদির আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা করে। পরবর্তী সময়ে তাঁর আপিলও খারিজ হয়ে যায়।

এরপর সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে শরিয়াহ আইনের আওতায় বিষয়টি বিবেচনার আবেদন করে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর আপিল আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে এবং আনোজানের সাজা মৃত্যুদণ্ডে পরিবর্তন করে।

আনোজানকে মৃত্যুদণ্ড থেকে রক্ষা করতে শ্রীলঙ্কা সরকার কূটনৈতিক ও আইনি উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাঁকে সহায়তায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

আনোজানের পরিবারের সদস্যরা ২১ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকের সঙ্গে দেখা করেন। প্রেসিডেন্ট বিষয়টি নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে যোগাযোগের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক মহলও ঘটনাটিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আনোজানের আইনি সহায়তার বিষয়ে সৌদি আরবে একটি শ্রীলঙ্কান প্রতিনিধিদল যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আনোজানের পরিবারের দাবি, ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। বিষয়টি শ্রীলঙ্কার দূতাবাসকে জানানো হলেও পরিবার এখনো তাঁর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পায়নি।

মানবাধিকার সংগঠনগুলো সৌদি আরবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের ঘটনায় কঠোর শাস্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্যের কারণে সৌদি আরবে মৃত্যুদণ্ডের ঘটনাও আলোচনায় এসেছে।

আনোজানের ক্ষেত্রে এখন তাঁর পরিবারের প্রধান ভরসা শ্রীলঙ্কা সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতা ও আইনি উদ্যোগ।

ফেসবুক মন্তব্যে মৃত্যুদণ্ড শ্রীলঙ্কান নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!