যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আটকা ৯ বাংলাদেশিসহ শতাধিক পর্যটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৮ PM ৪৪
নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে আটকা ৯ বাংলাদেশিসহ শতাধিক পর্যটক

ছবি:সংগৃহীত

নেপালের মধ্যাঞ্চলের গোর্খা জেলায় আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জন বাংলাদেশি রয়েছেন। দেশটির জনপ্রিয় মানাসলু ট্রেকিং রুটের বিভিন্ন স্থানে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে কাজ করছে স্থানীয় প্রশাসন ও নেপালের সেনাবাহিনী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আল জাজিরা ও তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমবারের বন্যায় গোর্খা জেলার বিভিন্ন এলাকায় সেতু, সড়ক ও কয়েক শ বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ট্রেকিং রুটের বেশ কিছু অংশ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে পাহাড়ি পথে ভ্রমণ করতে যাওয়া বিদেশি পর্যটকেরা বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়েছেন।

মানাসলু সংরক্ষণ এলাকা প্রকল্পের কর্মকর্তা ভুবন রাজ ওঝা জানান, বন্যায় পদযাত্রার পথের কিছু অংশ পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। ফলে পর্যটকদের স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ রয়েছে। যাঁরা ফিরে যেতে চান, তাঁদের উদ্ধারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আর যাঁরা ট্রেকিং চালিয়ে যেতে চান, তাঁদের নিরাপদ স্থানে অবস্থানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আটকে পড়া পর্যটকদের আশ্রয়ের জন্য পথের পাশের রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকানগুলো আপাতত নিরাপদ রয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার ভোরে কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার পশ্চিমে গোর্খা জেলায় বড় ধরনের ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এতে বুড়ি গণ্ডকী নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। পরে পানি ও ধ্বংসাবশেষের স্রোতে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।

বন্যায় নদীর দুই তীরের দুই শতাধিক বাড়িঘর ভেসে গেছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তিনটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে অন্তত পাঁচজন গ্রামবাসী নিখোঁজ রয়েছেন।

নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমে আসায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করেছে নেপালের সেনাবাহিনী। ইতিমধ্যে ১২ জন বিদেশিসহ ৩২১ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে গোর্খা জেলার জগৎ গ্রামে ৯ বাংলাদেশি ট্রেকার এখনো আটকা রয়েছেন বলে আনাদোলুর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

জগৎ গ্রামে আটকে পড়া বাংলাদেশি পর্যটক মো. শাহাদাত হোসেন আনাদোলুকে জানান, তাঁদের হেলিকপ্টারে করে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে আশা করছেন তাঁরা।

তিনি বলেন, আগের দিন থেকে তাঁরা জগৎ গ্রামে আটকে রয়েছেন। গ্রামের ওপরের দিক থেকে আকস্মিক বন্যার পানি নেমে এসে নিচের অংশ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।

শাহাদাত হোসেন জানান, তাঁরা নিরাপদে থাকলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি খাবারের মজুত ধীরে ধীরে কমে আসছে।

বন্যার আশঙ্কায় গোর্খা জেলার প্রশাসন নদীর ভাটিতে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। জাতীয় দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ গোর্খা ছাড়াও তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপারাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপারাসি জেলার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে।

বুড়ি গণ্ডকী নদী ত্রিশূলী নদীর একটি উপনদী। গত আগস্টে এই নদী অববাহিকার আরেকটি উপনদীতে হিমবাহ ধসের পর ভয়াবহ বন্যা হয়েছিল। ওই দুর্যোগে ১ হাজার ৪৫৭ জনের মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপালে নতুন করে বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনায় পাহাড়ি এলাকায় পর্যটকদের নিরাপত্তা এবং দুর্গম অঞ্চলে জরুরি উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটকে পড়া বাংলাদেশি পর্যটকদের উদ্ধারে পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

নেপালে ভূমিধস নেপালে উদ্ধার অভিযান

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!