যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসে ফাইল নড়ে না, সংসদে অভিযোগ

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৫ PM | সর্বশেষ আপডেট: ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৬ PM ৪৩
ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসে ফাইল নড়ে না, সংসদে অভিযোগ

ছবি:সংগৃহীত

শতভাগ ই-নামজারি ও অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের ব্যবস্থা চালু হলেও ভূমি অফিস ও সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ঘুষের অভিযোগ বন্ধ হয়নি—এমন বিষয় জাতীয় সংসদে তুলে ধরা হয়েছে।

ঘুষ ছাড়া ফাইল নড়ার অভিযোগের পাশাপাশি ভুয়া দলিল ব্যবহার করে সরকারি খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও প্রশ্ন উঠেছে সংসদে।

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা আহমেদ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর কাছে এসব বিষয়ে জানতে চান।

সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে ভূমিমন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাদের কার্যক্রমের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হলেন বিভাগীয় কমিশনার।

তিনি জানান, মাঠপর্যায়ে কর্মরত এসব কর্মকর্তার কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে বিভাগীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে তদন্ত করা হয় এবং তদন্তের পর প্রচলিত বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

ভূমি সেবায় অনিয়ম বা দুর্নীতির অভিযোগ জানাতে অনলাইন ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে বলে সংসদকে জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয় ‘ভূমিসেবায় অভিযোগ ব্যবস্থাপনা সিস্টেম’ চালু করেছে। এর মাধ্যমে দেশের যেকোনো স্থান থেকে ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগ অনলাইনে জমা দেওয়া যায়।

প্রাপ্ত অভিযোগগুলো নিয়মিত পর্যালোচনা ও নিষ্পত্তি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে ফলাফল বা ফিডব্যাক জানানো হচ্ছে।

এ ছাড়া গ্রিভ্যান্স রিড্রেস সিস্টেম (জিআরএস)-এর মাধ্যমে পাওয়া অভিযোগের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

ভূমি-সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে মন্ত্রণালয়ের হটলাইন ১৬১২২ নম্বরেও যোগাযোগ করা যায়।

ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে ভূমিমন্ত্রী বলেন, দেশের খাসজমি ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব জেলা প্রশাসকদের ওপর ন্যস্ত।

জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে খাসজমি পর্যবেক্ষণ করেন।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে দখল হলে তা উচ্ছেদ করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের কোথাও খাসজমি অবৈধভাবে দখলের ঘটনা ঘটলে তা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

ভুয়া দলিল তৈরির বিষয়ে ভূমিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ভুয়া দলিলের মাধ্যমে সরকারি খাসজমি কিংবা সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখলের ঘটনা ঘটলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

তবে সংসদে দেওয়া জবাবে ঘুষ ছাড়া ফাইল না নড়ার অভিযোগে কতজন কর্মকর্তা বা তহসিলদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাঁদের কী ধরনের শাস্তি দেওয়া হয়েছে কিংবা খাসজমি ও সংখ্যালঘুদের জমি দখলের ঘটনায় কতজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এসব বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান বা তালিকা দেওয়া হয়নি।

ভূমি অফিস দুর্নীতি ভুয়া দলিল সংসদে ঘুষের অভিযোগ

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!