যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য নয়: দীনেশ ত্রিবেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৫৯ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৪ PM ৫৫
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য নয়: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চান না বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, দেশের মানুষের জন্য কোন সিদ্ধান্ত ভালো, তা বাংলাদেশের জনগণ ও নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকারই সবচেয়ে ভালোভাবে নির্ধারণ করতে পারে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও ভারতের সম্পর্ক এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে তৈরি হওয়া টানাপোড়েন নিয়ে জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি একজন রাষ্ট্রদূত হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করতে চান না।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণ এবং নির্বাচিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার দেশের মানুষের জন্য কী ভালো, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ে দীনেশ ত্রিবেদী দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগ ও সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, দুই দেশে যে প্রতিনিধিই দায়িত্ব পালন করুন না কেন, মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

তিনি বলেন, দুই দেশের নেওয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্তের প্রভাব শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ওপর পড়ে। তাই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া দুই দেশেরই দায়িত্ব, যাতে মানুষের জন্য ইতিবাচক ফল আসে।

বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন সীমান্তের কথাও উল্লেখ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। প্রতিবেশী হিসেবে দুই দেশের দায়িত্ব আরও বেশি বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো দেশ বড় বা ছোট নয়; দুই দেশই সমান।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনের সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের অভিজ্ঞতা থেকেও শেখার কথা জানান দীনেশ ত্রিবেদী।

বাংলাদেশ ও ভারতের নিজ নিজ রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে একে অপরের উপলব্ধি থাকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর মতে, দুই দেশের সমস্যাগুলো বিবেচনায় রেখেই সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।

অতীতের ঘটনাকে ভুলে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে সেখানে আটকে থাকাও উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নেওয়া কঠিন হবে।

সাক্ষাতে দুই দেশের বাণিজ্য ও মুক্ত বাণিজ্যের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি। দুই দেশের মানুষের সুবিধার জন্য বাণিজ্য আরও সহজ করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার।

এদিকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ড. আবদুল মঈন খানকে শুভেচ্ছা জানাতে দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাতে এসেছিলেন বলে জানান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

তিনি বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। ভারতের সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদী তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। একইভাবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীও বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন।

মীর শাহে আলম জানান, চলতি অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাচনগুলো অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা সরকারের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!