যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া গেল

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৫ PM ৫৪
নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়ে সর্বশেষ যে তথ্য পাওয়া গেল

ছবি: সংগৃহীত

নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ের আনুষ্ঠানিকতায় রয়েছে। প্রজ্ঞাপনের খসড়া রেজোল্যুশন বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) হয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরার পর আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই আইনি যাচাই শেষ হলে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের পে স্কেল প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত এক কর্মকর্তা জানান, গত ২ সেপ্টেম্বর রেজোল্যুশনটি বিজি প্রেসে পাঠানো হয়েছিল। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে ফেরত আসে। এরপর আইনি যাচাইয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা জানান, গেজেট প্রকাশে অযথা বিলম্ব করার সুযোগ নেই। প্রশাসনিক ও আইনগত আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেই প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

এর আগে ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় পে-স্কেলের অনুমোদন দেওয়া হয়। নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের আগে ভেটিংসহ কিছু আনুষ্ঠানিকতা শেষ করার প্রয়োজন রয়েছে।

নতুন কাঠামোয় সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২০তম গ্রেডের বেসিক ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। অন্যদিকে প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে দ্বিগুণ হয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

তবে অনুমোদিত বেতন একবারে পুরোপুরি কার্যকর হবে না। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যে তিন ধাপে বাড়তি বেতন মূল বেতনের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বাড়তি অংশের ৫০ শতাংশ প্রথম ধাপে, ২৫ শতাংশ দ্বিতীয় ধাপে এবং বাকি ২৫ শতাংশ তৃতীয় ধাপে কার্যকর হবে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের ক্ষেত্রে এই হার হবে যথাক্রমে ৪০, ৩০ ও ৩০ শতাংশ।

উদাহরণ হিসেবে, ২০তম গ্রেডে বর্তমান ৮ হাজার ২৫০ টাকা বেসিক শেষ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। প্রথম ধাপে তা ১৪ হাজার ১২৫ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ১৭ হাজার ৬২ টাকা ৫০ পয়সা এবং তৃতীয় ধাপে ২০ হাজার টাকা হবে।

প্রথম গ্রেডে ৭৮ হাজার টাকা থেকে মূল বেতন শেষ পর্যন্ত ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হবে। তিন ধাপে বেসিক দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ লাখ ৯ হাজার ২০০ টাকা, ১ লাখ ৩২ হাজার ৬০০ টাকা এবং ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।

নবম গ্রেডের মূল বেতনও দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বর্তমান ২২ হাজার টাকা থেকে এই গ্রেডের বেসিক বেড়ে হবে ৪৪ হাজার টাকা। ধাপে ধাপে তা ৩০ হাজার ৮০০, ৩৭ হাজার ৪০০ এবং ৪৪ হাজার টাকায় উন্নীত হবে।

নতুন বেসিক পুরোপুরি কার্যকর হলেও সংশ্লিষ্ট সব ভাতা একই সময়ে নতুন হারে চালু হবে না। বাড়িভাড়া, চিকিৎসা, শিক্ষা ও যাতায়াতসহ বিভিন্ন ভাতা নতুন কাঠামোয় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

অর্থাৎ ২০২৭ সালের জুলাইয়ের মধ্যে তিন ধাপে নতুন মূল বেতন পুরোপুরি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও ভাতার পূর্ণ সুবিধা পেতে আরও সময় লাগবে।

নতুন কাঠামোয় নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মীদের মোট আয়ও বাড়বে। উদাহরণ হিসেবে, ঢাকায় ২০তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের সঙ্গে প্রযোজ্য ভাতা যোগ হলে মাসিক আয় প্রায় ৪১ হাজার ৯০৮ টাকা হতে পারে। ১৩তম গ্রেডের একজন নতুন সহকারী শিক্ষকের ক্ষেত্রে মোট আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা এবং ১০ম গ্রেডে মোট আয় ৫০ হাজার টাকার বেশি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নবম গ্রেডে নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তার বেসিক হবে ৪৪ হাজার টাকা। ঢাকায় ৫০ শতাংশ বাড়িভাড়া যোগ হলে বেসিক ও বাড়িভাড়া মিলিয়ে দাঁড়াবে ৬৬ হাজার টাকা। অন্যান্য প্রযোজ্য ভাতা যুক্ত হলে মোট আয় প্রায় ৭০ হাজার টাকা হতে পারে।

তবে কর্মরত পুরোনো চাকরিজীবীদের নতুন বেতন নির্ধারণের হিসাব আলাদা হবে। তাদের বর্তমান মূল বেতন, চাকরির মেয়াদ, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি এবং অন্যান্য প্রাপ্যতা বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।

নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের ব্যয়ও বাড়বে। বেতন, ভাতা ও পেনশন খাতে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা ব্যয়ের হিসাব করা হয়েছে। এতে সরকারি চাকরিজীবী ও পেনশনভোগী মিলিয়ে প্রায় ৩৩ লাখ মানুষ অন্তর্ভুক্ত হবেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট অর্থ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, একসঙ্গে পুরো বেতন কাঠামো কার্যকর করলে সরকারের ওপর বড় ধরনের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ তৈরি হতে পারত। তাই রাজস্ব পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি ও সরকারের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

সাবেক অর্থসচিব মাহবুব আহমেদের মতে, ধাপে ধাপে বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারের ব্যয় ব্যবস্থাপনায় একসঙ্গে বড় চাপ পড়বে না।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!