যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন ও নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৫ PM ৫৪
গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১৫০ কূপ খনন ও নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা

ছবি:সংগৃহীত

শিল্প খাতে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে নতুন এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ এবং ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান বাড়াতে সাইসমিক সার্ভেসহ একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সদস্য সুলতানা আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এসব তথ্য জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০৩০-৩১ সালের মধ্যে ১৫০টি কূপ খননের পাশাপাশি ৪ হাজার ৫০০ লাইন কিলোমিটার ২ডি এবং ৪ হাজার ২০০ বর্গকিলোমিটার ৩ডি সাইসমিক সার্ভে পরিচালনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

সমুদ্রাঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান

সমুদ্রের ২৬টি ব্লকে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান এবং উত্তোলনের জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে সংসদে জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, গত ২৪ মে সমুদ্রাঞ্চলে আন্তর্জাতিক বিডিং রাউন্ড আহ্বান করা হয়েছে। এতে আগামী নভেম্বর পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারিত রয়েছে।

স্থলভাগে অনুসন্ধানে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য ‘বাংলাদেশ অনশোর মডেল পিএসসি-২০২৬’ তৈরির কাজও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বাড়ছে এলএনজি সরবরাহের সক্ষমতা

বর্তমানে দেশে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক গড়ে প্রায় ৯৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

শিল্প খাতে হঠাৎ গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিলে যাতে উৎপাদন ব্যাহত না হয়, সে জন্য নতুন এলএনজি অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোমে একটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ীতে একটি স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের কাজ চলছে।

কুতুবজোমের টার্মিনাল থেকে ২০২৮ সালে এবং মাতারবাড়ীর টার্মিনাল থেকে ২০৩০ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে রি-গ্যাসিফাইড এলএনজি সরবরাহের প্রত্যাশা করছে সরকার।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলেও এলএনজি টার্মিনালের সম্ভাব্যতা যাচাই

জরুরি প্রয়োজনে পায়রা বা মোংলা বন্দর এলাকা কিংবা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় কোনো উপযুক্ত স্থানে আরও একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে।

সরকার মনে করছে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে আকস্মিক গ্যাস সংকটের সময় অতিরিক্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা

ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্যাস নেটওয়ার্কে যুক্ত করার বিষয়েও সংসদে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে নিতে চাইলে অবকাঠামো তৈরিতে অন্তত সাত বছর সময় লাগতে পারে।

এ কারণে ভোলার গ্যাস স্থানীয়ভাবে কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পাশাপাশি ভোলার অর্থনীতিও শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।

ভোলায় সার কারখানা ও বিদ্যুৎকেন্দ্র

ভোলার গ্যাস ব্যবহার করে একটি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি সেখানে ৫০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ভোলার গ্যাস এলএনজি আকারে মূল ভূখণ্ডে এনে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে সরবরাহের সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। গ্যাস পাওয়া গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড ও বিসিক শিল্পনগরীর মতো পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার।

দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তায় জোর

সরকারের এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ানো, আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং শিল্প ও রপ্তানি খাতে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন নিশ্চিত করা।

একই সঙ্গে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকট বাংলাদেশ গ্যাস

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!