যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পাসপোর্টে গোয়েন্দা যাচাই অযৌক্তিক: হাইকোর্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:১১ PM ৬৪
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের পাসপোর্টে গোয়েন্দা যাচাই অযৌক্তিক: হাইকোর্ট

হাইকোর্ট। ফাইল ছবি

অবসরের পর সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যুর আগে নতুন করে গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের মুখোমুখি করা অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন বলে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলীর পাসপোর্ট সংক্রান্ত একটি রিটের রায়ে আদালত এ মত দেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়। বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন।

রায়ে মোহাম্মদ ইমান আলীসহ সুপ্রিম কোর্টের সাবেক বিচারক এবং তাদের স্ত্রীদের কোনো অতিরিক্ত গোয়েন্দা যাচাই ছাড়াই সাধারণ পাসপোর্ট ইস্যু করে তা হস্তান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আদালত বলেছেন, বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় রাষ্ট্র তাদের মর্যাদা ও পরিচয় যাচাই করেই কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়ে থাকে। ফলে দায়িত্ব শেষ হওয়ার পর সাধারণ পাসপোর্ট পাওয়ার ক্ষেত্রে তাদের আবার গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়ার মধ্যে নেওয়াকে আদালত অযৌক্তিক ও ভিত্তিহীন হিসেবে দেখেছেন।

রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ‘ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স’ অনুসারে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক ও তাদের স্ত্রীদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট পাওয়ার অধিকার রয়েছে। বিচারকের পদ থেকে অবসর বা পদত্যাগের পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে হয়। আগে এ ধরনের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের প্রয়োজন ছিল না।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ২২ আগস্ট জারি করা এক স্মারকে কূটনৈতিক পাসপোর্ট সমর্পণকারীদের সাধারণ পাসপোর্ট দেওয়ার আগে দুটি গোয়েন্দা সংস্থার সন্তোষজনক প্রতিবেদন পাওয়ার শর্ত দেয়।

এই পরিবর্তনের পর মোহাম্মদ ইমান আলী ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের আবেদন করেন। কিন্তু গোয়েন্দা ক্লিয়ারেন্স না পাওয়ার কারণ দেখিয়ে তাকে পাসপোর্ট দেওয়া হয়নি। এর ফলে তিনি বিদেশ ভ্রমণে বাধার মুখে পড়েন বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।

পরে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের অনুমতি নিয়ে হাইকোর্ট বিভাগের প্রোটোকল অফিসার মো. রোমান ভূঁইয়া প্রশাসনিক এই বাধার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। ওই আবেদনের পর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। সেই রুলের নিষ্পত্তি করে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!