যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

আদালতের রায়-আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৯ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫০ PM ৪১
আদালতের রায়-আদেশের বিরুদ্ধে হরতাল-ধর্মঘট অবৈধ, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ হাইকোর্টের

ছবি:সংগৃহীত

আদালতের রায় বা আদেশের প্রতিবাদে হরতাল কিংবা ধর্মঘট আহ্বান করা বেআইনি ও সংবিধানবিরোধী বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ ধরনের কর্মসূচি আহ্বান করা হলে সংশ্লিষ্ট বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি শশাঙ্ক কুমার সরকার ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে স্বরাষ্ট্রসচিব, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনকে (বিআরটিসি) আদালতের রায় বা আদেশের বিরুদ্ধে কোনো হরতাল কিংবা ধর্মঘট হলে প্রচলিত ফৌজদারি আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দেশের সব ব্যক্তি ও কর্তৃপক্ষের জন্য আদালতের সিদ্ধান্ত মানা বাধ্যতামূলক। কোনো রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার আইনি সুযোগ রয়েছে। তবে সেই রায়ের প্রতিবাদে হরতাল বা ধর্মঘট ডাকা আইনসঙ্গত নয়।

এই রায়ের পেছনে রয়েছে ২০১১ সালের একটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা। ওই বছরের আগস্টে মানিকগঞ্জের ঘিওরে বাস দুর্ঘটনায় চলচ্চিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদ, সাংবাদিক ও সম্প্রচার ব্যক্তিত্ব মিশুক মুনীরসহ পাঁচজন নিহত হন।

ঘটনাটি নিয়ে করা মামলায় ২০১৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ বাসচালককে সাজা দেন। ওই রায়ের প্রতিবাদে পরিবহন মালিকদের পক্ষ থেকে ধর্মঘট ও হরতাল পালনের খবর প্রকাশিত হয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

এরপর জনস্বার্থে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট আবেদন করে। রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে আদালত রুল জারি করেন। আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে ধর্মঘট বা হরতাল আহ্বান কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।

একই সময়ে ধর্মঘট প্রত্যাহার এবং সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদালতের ওই নির্দেশের পরদিন পরিবহন ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে রোববার হাইকোর্ট এ রায় ঘোষণা করেন।

রিটের পক্ষে শুনানি করেন সিনিয়র আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আহসান হাবীব। বিআরটিসির পক্ষে অ্যাডভোকেট আসিবুল হক এবং বিআরটিএর পক্ষে মো. রাফিউল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন।

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, বাসচালকের সাজাকে কেন্দ্র করে পরিবহন মালিকেরা ধর্মঘট ডেকে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি অসম্মান দেখিয়েছিলেন। পাশাপাশি ধর্মঘটের কারণে সাধারণ মানুষের চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে ধর্মঘট হাইকোর্টের রায়

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!