যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জোর রাষ্ট্রপতির

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৪ PM ৫৫
বাংলাদেশ-পাকিস্তান বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে জোর রাষ্ট্রপতির

ছবি:সংগৃহীত

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

বঙ্গভবনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণের বিষয়টি রাষ্ট্রপতিকে জানানো হয়। আমন্ত্রণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাকিস্তান বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের মানুষ লাভবান হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর প্রয়োজন রয়েছে।

বাংলাদেশের বাজারে পাকিস্তানি তৈরি পোশাকের চাহিদার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান থেকে তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানির সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ভারসাম্যপূর্ণ করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার জানান, অক্টোবর মাসে ঢাকায় পাকিস্তানি পণ্য নিয়ে একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। একই ধরনের বাংলাদেশি পণ্যের মেলা পাকিস্তানেও আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এ ছাড়া ফুটবলসহ বিভিন্ন ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগের আগ্রহের কথাও জানান হাইকমিশনার।

ঢাকা-করাচি সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি তুলে ধরে ইমরান হায়দার বলেন, সরাসরি ফ্লাইট দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে। ভবিষ্যতে ফ্লাইটের সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশি চায়ের মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান হাইকমিশনার। বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের চা রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সিরামিক, পান, বিভিন্ন কৃষিপণ্য ও ওষুধসহ বাংলাদেশের বেশ কিছু মানসম্মত পণ্যের পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে যোগাযোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে তাঁর দেশ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখে। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াতে পাকিস্তান কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

দুই দেশের সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ বিনিময়ের ওপরও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

সাক্ষাৎ শেষে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি তাঁকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

বাংলাদেশ পাকিস্তান সম্পর্ক রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!