ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযানের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রাথমিকভাবে তিনি জেনেছেন সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে পুলিশের যথাযথ সমন্বয় ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) উচ্ছেদ অভিযান চলার সময় মিরপুর-১০ এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ফুটপাতের হকার ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গেও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় ডিএনসিসির তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে বলে পুলিশ ও বিভিন্ন প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অভিযানে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। এ কারণে অভিযানের সময় প্রয়োজনীয় সমন্বয় ছিল কি না, সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার বিস্তারিত কারণও পরিষ্কার হবে বলে জানান তিনি।
এদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাত ও অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি। অভিযানের সময় প্রথমে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। পুলিশ জানিয়েছে, তিনটি সিটি করপোরেশনের ময়লার গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে। একটি পুলিশ গাড়ি ও একটি এক্সকাভেটরও ভাঙচুরের অভিযোগ রয়েছে।
আগুনের সূত্রপাত নিয়ে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় বৈদ্যুতিক তারের বিষয়টি উঠে এসেছে। তাঁদের ভাষ্য, উচ্ছেদ কার্যক্রমের সময় ডিশ লাইনের কেবল সরানোর একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন লাগে। পরে আগুন একটি ট্রান্সফরমারের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে পরবর্তী সময়ে ডিএনসিসির গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা আলাদা করে ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১৪ নম্বর সড়কে যান চলাচলও বন্ধ রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুটি ইউনিট কাজ করে।
ঘটনার সময় হকারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে উত্তেজনা আরও বাড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে প্রথম আলো জানিয়েছে, একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং হকারদের একটি অংশ ইটপাটকেল ছোড়ে। ঘটনাস্থলে কয়েকজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও সাংবাদিক আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পদ্ধতি, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সংঘর্ষের সময় পরিস্থিতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেল—তদন্তে এসব বিষয়ই গুরুত্ব পাবে। এ ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব ও জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরে জানা যাবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!