যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

সৌদিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আলোচনা, নিহতের পরিবার পাবে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২২ PM ৩৮
সৌদিতে আটকে পড়া বাংলাদেশিদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে আলোচনা, নিহতের পরিবার পাবে সাড়ে ১৩ লাখ টাকা

ছবি:সংগৃহীত

সৌদি আরবে আটকে পড়া বাংলাদেশি কর্মীদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে তাঁদের কর্মস্থলে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে সৌদি আরবসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে সমাধান খোঁজা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতির কারণে আলোচনা কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অভিবাসনবিষয়ক গবেষণা সংস্থা রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) একটি অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, যেসব বাংলাদেশি কর্মীর ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে, তাঁদের ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে আবার কর্মসংস্থানে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। এর আগে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে ভিসার মেয়াদ বাড়িয়ে কর্মীদের কর্মস্থলে ফেরার সুযোগ তৈরি করা হয়েছিল।

নুরুল হক বলেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো সাধারণত এ ধরনের বিষয়ে সহযোগিতাপরায়ণ। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে এবার আলোচনা কিছুটা কঠিন হয়ে উঠেছে। তারপরও আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সৌদি আরবের রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলায় বাংলাদেশি নাগরিকদের হতাহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ দূতাবাস সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকেই বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও দূতাবাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের খোঁজখবর নিয়েছেন। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশ আহত বাংলাদেশিদের চিকিৎসা এবং নিহতদের মরদেহ দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা করছে।

নুরুল হক বলেন, সৌদি আরব বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। সংকটের সময়ে দেশটির কাছে সহযোগিতা চাওয়ার পাশাপাশি তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার নিজস্ব উদ্যোগে নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দিচ্ছে।

বিদেশে কর্মরত কোনো বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) মাধ্যমে নিবন্ধিত কোনো কর্মী বিদেশে মারা গেলে তাঁর পরিবার সরকারিভাবে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা সহায়তা পায়। এ ছাড়া দ্বিপক্ষীয় চুক্তি অনুযায়ী কিছু কোম্পানি কর্মীদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দিয়ে থাকে।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশের বিদেশগামী শ্রমশক্তির প্রায় ৭৫ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যান। তাঁদের অর্ধেকের বেশি সৌদি আরবে কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি জমান।

যুদ্ধের কারণে গত কয়েক মাসে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা কিছুটা কমলেও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শেষ হলে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর পুনর্গঠনকাজে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছে সরকার। এসব কাজে বাংলাদেশি কর্মীরা অগ্রাধিকার পেতে পারেন বলে আশা প্রকাশ করেন নুরুল হক।

তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানের কাজও চলছে। একই সঙ্গে দেশে ফিরে আসা কর্মীদের পুনর্বাসনে প্রশিক্ষণ এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, পুনরেকত্রীকরণ প্রকল্পের আওতায় দেশে ফেরা কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের আগের কাজের অভিজ্ঞতার সনদ মূল্যায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে।

এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় সরকারিভাবে অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই কর্মী পাঠানোসহ বিভিন্ন সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) প্রক্রিয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সুরক্ষা, ভিসার মেয়াদ বৃদ্ধি, নিহত কর্মীদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং বিকল্প শ্রমবাজার সম্প্রসারণকে বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় নুরুল হক নুর

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!