যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৫ PM | সর্বশেষ আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ PM ৩৮
অপারেশন ক্লিন হার্টের মতো অভিযানের পরিকল্পনা নেই সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’-এর মতো বিশেষ অভিযান পরিচালনার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তবে অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অপরাধ দমনে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সাইবার কার্যালয় ও ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। গ্রেপ্তার অভিযানে কেউ বাধা দিলে কিংবা কোনো আসামিকে আশ্রয় বা সহযোগিতা করলে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধী ধরতে গিয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, দায়িত্ব পালনের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কখনো কখনো হামলার শিকার হন। তবে এসব পরিস্থিতির মধ্যেও অপরাধ দমনে পুলিশের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না।

অনুষ্ঠানে সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তির বিস্তারের সঙ্গে অপরাধের ধরন বদলাচ্ছে। অনলাইন প্রতারণার পাশাপাশি শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো অপরাধেও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব অপরাধের তদন্তে ডিজিটাল ফরেনসিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে পুলিশ সাইবার ইউনিট আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এই ইউনিটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে সাইবার অপরাধ শনাক্ত ও ডিজিটাল তথ্য বিশ্লেষণের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

চট্টগ্রামে উদ্বোধন করা সিআইডির ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব প্রতিষ্ঠায় দক্ষিণ কোরিয়া সরকার ও কোরিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (কয়কা) সহযোগিতা করেছে। সিআইডির তত্ত্বাবধানে ল্যাবটি পরিচালিত হলেও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, দেশের আটটি বিভাগীয় সদর দপ্তরে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও ডিজিটাল অপরাধ বিশ্লেষণের সক্ষমতা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, বিচারিক কার্যক্রমে ডিজিটাল তথ্য ও আলামতের নির্ভরযোগ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ। আদালতে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন এবং সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চায় সরকার।

প্রসঙ্গত, ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে ‘অপারেশন ক্লিন হার্ট’ নামে যৌথ বাহিনীর অভিযান শুরু হয়। ২০০৩ সালের ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত ওই অভিযানে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর), পুলিশ ও আনসার সদস্যরা অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ১১ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তবে হেফাজতে মৃত্যুসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযানটি বিতর্কিত হয়ে ওঠে। পরবর্তী সময়ে অভিযানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিতে প্রণীত আইন ২০১৫ সালে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

এবার একই ধরনের অভিযান পরিচালনার সম্ভাবনা নাকচ করলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রচলিত আইনের আওতায় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ তদন্তে পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!