গৌরীপুরের প্রত্যাহার হওয়া এসিল্যান্ড মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যা; ছবি: সংগৃহীত
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে দায়িত্ব নেওয়ার প্রায় ২০ দিনের মাথায় প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট ও অভিযোগ ছড়িয়ে পড়েছিল।
নিয়ামত উল্ল্যা গত ১ সেপ্টেম্বর গৌরীপুরের এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব নেন। এর আগে তিনি ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ২০২১ সালে সরকারি চাকরিতে যোগ দেওয়ার পর খুলনা ও টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়েও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন জানিয়েছেন, রোববার সকালে নিয়ামত উল্ল্যাকে তাৎক্ষণিক বদলির আদেশ দেওয়া হয়। আদেশে সরকারি জনস্বার্থের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। প্রথম আদেশে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্তির কথা বলা হলেও পরে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। একই দিন সন্ধ্যায় তিনি কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
তবে ঠিক কোন কারণে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না বলে জানিয়েছেন ইউএনও। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।
ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেছেন, নিয়ামত উল্ল্যাকে নিয়ে ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছিল। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাঁকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। তবে কী ধরনের অভিযোগ বা তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টগুলোতে নিয়ামত উল্ল্যার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তাঁর ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং ছদ্মনামে ব্লগে লেখালেখি নিয়েও বিভিন্ন দাবি করা হয়েছে। এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত করা যায়নি।
অন্যদিকে, ইউএনওর সঙ্গে কথা বলার সময় নিয়ামত উল্ল্যা নিজের চাকরিজীবনের কিছু দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করেছেন এবং সে সময় তাঁর কর্ম এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন। টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি সফরের সময় খাবার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বও তাঁকে দেওয়া হয়েছিল বলে তিনি জানিয়েছেন। এসব তথ্য তাঁর বক্তব্য হিসেবে এসেছে; এগুলোকে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রমাণ হিসেবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগ দেওয়ার মধ্য দিয়ে নিয়ামত উল্ল্যার কর্মজীবন শুরু হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১ মে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং ২০২৬ সালের ১ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগ দেন তিনি। সর্বশেষ ১ সেপ্টেম্বর গৌরীপুরের এসিল্যান্ড হিসেবে দায়িত্ব নেন।
নিয়ামত উল্ল্যার প্রত্যাহারের আদেশে সরকারি জনস্বার্থের কথা উল্লেখ থাকলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো অভিযোগগুলোর কোনোটি সত্য প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার দাবিগুলো আপাতত অভিযোগ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!