যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

চাকরিতে মেধার বদলে নেতার সুপারিশ কেন, প্রশ্ন পাটওয়ারীর

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৬ PM ৬৬
চাকরিতে মেধার বদলে নেতার সুপারিশ কেন, প্রশ্ন পাটওয়ারীর

এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী; ছবি: সংগৃহীত

সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতাই প্রধান বিবেচ্য হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তাঁর মতে, চাকরিপ্রার্থীকে যদি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও রাজনৈতিক পরিচয় বা কোনো নেতার সুপারিশের ওপর নির্ভর করতে হয়, তাহলে তা নিয়োগব্যবস্থার জন্য প্রশ্ন তৈরি করে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগে ভেরিফিকেশনের কারণে প্রার্থী বাদ পড়া এবং ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের চাকরিতে ভাইভার নম্বর বাড়ানোর উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি এসব কথা বলেন।

পাটওয়ারীর ভাষ্য, একজন তরুণ দীর্ঘ সময় পড়াশোনা করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরও যদি চাকরির আগে পরিবারের রাজনৈতিক পরিচয়, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি কিংবা কোনো নেতার সুপারিশের কথা ভাবতে বাধ্য হন, তাহলে সমস্যাটি শুধু একজন চাকরিপ্রার্থীর নয়; নিয়োগব্যবস্থার কাঠামো নিয়েই প্রশ্ন ওঠে।

প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগের প্রসঙ্গে তিনি দাবি করেন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার ধাপ শেষ করে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও পুলিশ ভেরিফিকেশনের কারণে বিভিন্ন জেলার অনেক প্রার্থী বাদ পড়েছেন। তাঁর দাবি, বাদ পড়া প্রার্থীর সংখ্যা অন্তত এক হাজার।

পাটওয়ারী আরও উল্লেখ করেন, নিয়োগের সময় পুলিশ ভেরিফিকেশনের শর্তে নাশকতা, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণকে অনুপযুক্ততার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।

এদিকে ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিতে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর পুনর্বণ্টনের প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। প্রকাশিত খসড়া বিধিমালা অনুযায়ী, গ্রেডভেদে ভাইভার নম্বর ১০ থেকে বাড়িয়ে ২৫, ৪০ ও ৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে। ১১ ও ১২তম গ্রেডে ভাইভার নম্বর ৫০ করার প্রস্তাব রয়েছে, যেখানে বর্তমানে ১০ নম্বর থাকে।

পাটওয়ারীর আশঙ্কা, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর বাড়লে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক প্রভাব, লবিং বা স্বজনপ্রীতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সরকারি পক্ষ থেকে এই পরিবর্তনের উদ্দেশ্য দক্ষ ও উপযুক্ত জনবল বাছাই করা বলে জানানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নিজের বক্তব্যের পক্ষে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের সাম্প্রতিক একটি বক্তব্যের কথাও তুলে ধরেন পাটওয়ারী। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২২ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের ইটনায় এক জনসভায় ফজলুর রহমান চাকরিপ্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন এবং প্রয়োজনীয় জায়গায় ফোন করার কথা জানান।

পাটওয়ারী তাঁর পোস্টে বলেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পর দেশে নতুন ব্যবস্থা গড়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, সেই পরিবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হতে পারে নিয়োগব্যবস্থার সংস্কার। চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে একজন তরুণের রাজনৈতিক পরিচয়ের বদলে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রধান ভিত্তি করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন চাকরিপ্রার্থী যেন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারেন—তিনি কারও সুপারিশের ওপর নির্ভর করে নয়, পরীক্ষায় ভালো ফল করার কারণেই চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!