যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে জোর বিএনপির

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪২ PM ৩৫
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী বাছাইয়ে জোর বিএনপির

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় নির্বাচনে জয়ের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে চায় বিএনপি। এ লক্ষ্য সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও উপজেলা নির্বাচনে দলীয়ভাবে সমর্থিত একক প্রার্থী নির্ধারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তা, পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতাকে বাছাইয়ের প্রধান বিবেচনা হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দৈনিক আমাদের সময়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীক না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন প্রার্থীদের জয়-পরাজয়ে প্রভাব ফেলতে পারে। এ বাস্তবতায় একই এলাকায় বিএনপির একাধিক নেতার প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে আনতে চায় দলটির নেতৃত্ব। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ-সমর্থক ভোটার, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থীদের অবস্থান বিবেচনায় রেখে নির্বাচনী কৌশল সাজানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, জমি দখল, জনহয়রানি কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় পর্যায়ে জরিপ ও জনমতকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

প্রার্থী নির্বাচনে দলের দুঃসময়ে নেতাদের ভূমিকা, রাজনৈতিক মামলা ও হামলার অভিজ্ঞতা, রাজপথে সক্রিয়তা এবং দলীয় আদর্শের প্রতি আনুগত্যও বিবেচনায় রাখার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় আর্থসামাজিক পরিস্থিতি, আঞ্চলিক সমীকরণ এবং প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবিলায় সম্ভাব্য প্রার্থীর সাংগঠনিক সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে।

দলটির সংশ্লিষ্ট নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘদিন পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিএনপির জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের পাশাপাশি সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখারও বড় পরীক্ষা হবে। জাতীয় নির্বাচনে সাফল্যের পর তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার সুযোগ তৈরি হলেও একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, অভ্যন্তরীণ বিরোধ এবং নির্বাচনী সহিংসতার ঝুঁকি দলটির জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আমাদের সময়কে জানিয়েছেন, প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে দলীয় শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক নির্দেশনা মেনে চলার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ বাছাই কমিটি গঠনের উদ্যোগ রয়েছে। এসব কমিটি মাঠপর্যায়ের তথ্য ও জনমত পর্যালোচনা করে উপযুক্ত একক প্রার্থী নির্ধারণে সহায়তা করবে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে তিনি জানান।

রিজভীর ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য প্রার্থীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততা, স্থানীয় পর্যায়ে গ্রহণযোগ্যতা এবং দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন যাচাইয়ের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের নেতারা প্রার্থীদের মূল্যায়ন করবেন। একই এলাকা থেকে একাধিক প্রার্থী যাতে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় না নামেন, সে বিষয়েও সমন্বয়ের চেষ্টা চলছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে চার সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় প্রস্তুতি কমিটি গঠনের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিটিতে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য মো. ইসমাইল জবিহুল্লাহ এবং দলের বিশেষ সম্পাদক বেলায়াত হোসেন মৃধা। কমিটি বিভিন্ন বিভাগের সাংগঠনিক ইউনিটের নেতাদের সঙ্গে ভার্চুয়াল ও সরাসরি বৈঠক করেছে বলে জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে কমিটির পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে।

বিএনপির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলমের বক্তব্য অনুযায়ী, একই এলাকায় একাধিক প্রার্থী থাকলে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর প্রার্থীরা সুবিধা পেতে পারেন। এ কারণে প্রার্থী বাছাইয়ে সমন্বয় ও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় পর্যায়ে মতপার্থক্য মেটানোর চেষ্টা করা হবে; সমাধান না হলে বিভাগীয় নেতৃত্ব এবং প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে বিষয়টি নেওয়া হবে। নির্বাচন জানুয়ারিতে শুরু হতে পারে এবং ইউনিয়ন পরিষদ দিয়ে ভোটগ্রহণের সূচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ। বড় দল হিসেবে বিএনপির একেকটি এলাকায় একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তাঁদের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার কৌশল নিয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে কাজ চলছে। তাঁর মতে, জাতীয় নির্বাচনের পর স্থানীয় সরকার নির্বাচন সরকারের জনপ্রিয়তা এবং বিএনপির সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও জনসম্পৃক্ততা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হবে।

নির্বাচনের সময়সূচি নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও সরকারের বক্তব্যও আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছিলেন, শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা শেষে জানুয়ারিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। পরে ২৯ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্যে জানানো হয়, জানুয়ারিতে শুরু হয়ে ৬ জুন পর্যন্ত স্থানীয় সরকার নির্বাচন চলতে পারে। তবে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ভোটের নির্দিষ্ট সময়সূচি নিশ্চিত নয়।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!