ছবি: সংগৃহীত
বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভাগের ছয় জেলায় মোট ৬ হাজার ৫৬০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৬ হাজার ১৫৮ জন। আর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন ৯ জন।
বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিভাগের হাসপাতালগুলোতে ৩৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন। জেলাভিত্তিক হিসাবে বরিশালে ১০১, পিরোজপুরে ৯২, বরগুনায় ৬৬, পটুয়াখালীতে ৫৯, ঝালকাঠিতে ৪৯ এবং ভোলায় ২৬ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১৩২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে পিরোজপুরে ৩৬, ঝালকাঠিতে ২২, পটুয়াখালীতে ২১, বরগুনায় ১৭ এবং ভোলায় ৬ জন রয়েছেন। বরিশাল শহর ও জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ৩০ জন ভর্তি হয়েছেন।
চলতি বছরে বিভাগে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে পিরোজপুর। জেলাটিতে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৭৭৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে ঝালকাঠি—আক্রান্ত ১ হাজার ৫৭৯ জন।
এ ছাড়া বরিশালে ১ হাজার ৯৬, পটুয়াখালীতে ৮৮৩, বরগুনায় ৮৮৮ এবং ভোলায় ৩৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালেই রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগে বর্তমানে তিন শতাধিকের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফলে নির্ধারিত শয্যার বাইরে অতিরিক্ত রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে কর্মরত ১৫ জন চিকিৎসককে বিপুলসংখ্যক রোগী সামলাতে হচ্ছে।
হাসপাতালে ভর্তি এক রোগীর স্বজন সজল হাবিবুর রহমান জানান, চিকিৎসাসেবা ভালো হলেও জায়গার সংকটের কারণে মেঝেতে থেকেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। দ্রুত ২৫০ শয্যার হাসপাতালটি চালু হলে এ ভোগান্তি কমবে বলে আশা করেন তিনি।
পিরোজপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নিজাম উদ্দিন জানান, ২৫০ শয্যার নতুন হাসপাতাল ভবনের নিচতলার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জরুরি বিভাগ সেখানে স্থানান্তর করা হয়েছে। পুরো ভবন চালুর কাজ এগিয়ে চলছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!