যুক্তরাষ্ট্র   শনিবার ২৪ অক্টোবর ২০২৬,৮ কার্তিক ১৪৩৩

ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস বন্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪২ PM | সর্বশেষ আপডেট: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৫৬ PM ১২০
ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে চট্টগ্রামে ৩ নম্বর রুটের মিনিবাস বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ভাড়া বৃদ্ধির দাবিতে চট্টগ্রাম নগরের ৩ নম্বর রুটে মিনিবাস চলাচল বন্ধ রেখেছেন পরিবহনমালিক ও শ্রমিকেরা। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নিউমার্কেট-মুরাদপুর-বিশ্ববিদ্যালয় রুটে মিনিবাস না চলায় দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।

দুপুর ২টা পর্যন্ত মুরাদপুর এলাকায় ৩ নম্বর রুটের কোনো মিনিবাস দেখা যায়নি। তবে একই পথে টেম্পো, ম্যাক্সিমাসহ অন্যান্য গণপরিবহন চলাচল করছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, গ্যাসসংকটের কথা বলে গত এক মাস ধরে এই রুটে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হচ্ছে। মিনিবাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার সেই ভোগান্তি আরও বেড়েছে।

হামজারবাগের বাসিন্দা নুরুল আমিন জানান, আগে ৫ টাকার ভাড়া এখন ১০ টাকা এবং ১০ টাকার ভাড়া ১৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যেই ভাড়া বাড়ানোর দাবিতে মিনিবাস বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যাত্রীদের সমস্যা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।

পরিবহনমালিকদের ভাষ্য, গ্যাস সংগ্রহ করতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে প্রতিদিন গাড়ির ট্রিপের সংখ্যা কমছে এবং পরিচালন ব্যয় বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে গ্যাসচালিত গণপরিবহনের ভাড়া সমন্বয়ের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ডিজেলচালিত বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা নির্ধারিত থাকলেও গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারের জন্য নির্দিষ্ট ভাড়ার তালিকা নেই।

তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাসচালিত হিউম্যান হলারের নতুন ভাড়া নির্ধারণ না হওয়ায় ৩, ৭, ৮ ও ১০ নম্বর রুটসহ নগরের বিভিন্ন পথে ভাড়া আদায়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়েছে। চালক ও সহকারীরা নিজেদের মতো করে ভাড়া আদায় করছেন বলেও জানান তিনি।

তবে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে স্থানীয় পর্যায়ে গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ানোর সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) চট্টগ্রামের উপপরিচালক মো. সানাউল হক।

তিনি জানান, গণপরিবহনের ভাড়া নির্ধারণের জন্য নির্দিষ্ট কমিটি রয়েছে। তাই স্থানীয়ভাবে গাড়ি বন্ধ রেখে ভাড়া বাড়ানো বা কমানো যায় না। তাঁর মতে, এভাবে গণপরিবহন বন্ধ রাখা অন্যায়।

এদিকে মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকায় ৩ নম্বর রুটের যাত্রীরা টেম্পো, ম্যাক্সিমাসহ বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করছেন। এতে গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময়ের পাশাপাশি বাড়তি ভাড়াও দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা।

সমস্যার দ্রুত সমাধান করে ৩ নম্বর রুটে মিনিবাস চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!