ছবি: সংগৃহীত
পটুয়াখালীর বাউফলে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং টাকা না দেওয়ায় তার কীটনাশকের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবদল কর্মী সৈয়দ মো. সোহাগের বিরুদ্ধে। এ ছাড়া ওই ব্যবসায়ী ও তার বাবাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. নাইম হোসেন বাউফল থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
নাইম হোসেন উপজেলার পূর্ব কালাইয়া গ্রামের বাসিন্দা। শৌলা তারের পোল বাজারে তিনি কীটনাশক বিক্রির পাশাপাশি ট্রলি গাড়ির ব্যবসা পরিচালনা করেন। অভিযোগে অভিযুক্ত সোহাগকে কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগে নাইম বলেন, সোহাগ তার কাছে ৩ লাখ টাকা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দেওয়ায় প্রায় ২০ দিন আগে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তার কীটনাশকের দোকানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তালা ভেঙে তিনি আবার ব্যবসা শুরু করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, দোকান খোলার পর সোহাগ একাধিকবার নাইম ও তার বাবাকে ভয়ভীতি দেখান। গত মঙ্গলবার তাকে গালিগালাজ করার পাশাপাশি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন নাইম।
নাইমের বাবা বাবুল চৌকিদারের অভিযোগ, একটি তেলের দোকানে ডেকে নিয়ে ট্রলি চালানো ও তরমুজ পরিবহনের বিনিময়ে টাকা দাবি করেছিলেন সোহাগ। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে ফোনেও হুমকি দেওয়া হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সৈয়দ মো. সোহাগ। তার দাবি, আগের মৌসুমে নাইমের ট্রলিতে তার এক আত্মীয়ের তরমুজ পরিবহন করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি পিস তরমুজের জন্য এক টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও নাইম তা পরিশোধ করেননি। দোকানে তালা দেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
এ বিষয়ে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক গাজী গিয়াস ও সদস্যসচিব সাইফুল ইসলাম ফিরোজের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন ধরেননি। উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, সৈয়দ মো. সোহাগ যুবদলের কর্মী কি না, তা তার জানা নেই।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!