রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সোমবার সকালে স্বাভাবিক ছিল ট্রেন চলাচল। ছবি: সংগৃহীত
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাতের উত্তেজনাকর পরিস্থিতির পর সোমবার সকাল থেকে সারা দেশের সঙ্গে রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে রেললাইন অবরোধ ও স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তবে সকালে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ট্রেন চলাচল শুরু হওয়ায় স্টেশনেও ফিরে আসে স্বাভাবিক পরিবেশ।
সোমবার সকাল থেকে রাজশাহী-ঢাকা, রাজশাহী-খুলনা, রাজশাহী-চিলাহাটি ও রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জ রুটে ট্রেন চলাচল করছে। টিকিট কাউন্টার, প্ল্যাটফর্ম এবং যাত্রী ওঠানামার কার্যক্রমও স্বাভাবিক রয়েছে। রাজশাহী রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার হাসানুর রহমান ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, রাতের অবরোধের কারণে হরিয়ান স্টেশনে একটি ট্রেন আটকে পড়েছিল। সকালে সেটি প্রায় ২০ মিনিট দেরিতে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। এরপর অন্য ট্রেনগুলোও নির্ধারিত সময়ে চলাচল শুরু করে।
রোববার রাতে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলীকে রেলওয়ের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যরা মারধর করেছেন—এমন অভিযোগ ওঠে। এর প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি রেললাইনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে অবস্থান নেন।
একপর্যায়ে স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ও সরঞ্জামে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এর প্রভাবে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে এবং যাত্রীদের বড় ধরনের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
রাতের পরিস্থিতির কারণে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। এ ছাড়া রাজশাহীর দিকে আসা কয়েকটি ট্রেনও পথে আটকে পড়ে। ফলে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় স্টেশন ও বিভিন্ন পথে অপেক্ষা করতে হয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যে আলোচনা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা স্টেশন এলাকা ছেড়ে গেলে রেলপথে চলাচলের প্রতিবন্ধকতাও দূর হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ভোর থেকে ধীরে ধীরে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। ঘটনার কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণে চার সদস্যের তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে রাতের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরে স্টেশনের রেলওয়ে সম্পদের যে ক্ষতি হয়েছে, সেটিও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!