চুয়েটের মূল ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা; ছবি: সংগৃহীত
মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ঘিরে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) শিক্ষার্থীদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। সদ্য অপসারিত উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে সোমবার রাতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের পর মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন তাঁরা। একই সঙ্গে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচিও পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন একাডেমিক ভবন, ছাত্রী হল ও শিক্ষক আবাসিক এলাকার সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় সায়েমকে আবার উপাচার্যের দায়িত্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন আন্দোলনকারীরা।
বিক্ষোভে ছাত্রদের পাশাপাশি ছাত্রীরাও অংশ নেন। আবাসিক হলের নিয়মিত সময়ের পরও অনেক ছাত্রী হল থেকে বেরিয়ে এসে মিছিলে যোগ দেন। পরে তাঁরা অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক ঘুরে বিক্ষোভে অংশ নেন।
রাত ১২টার দিকে মিছিলটি স্বাধীনতা চত্বরে ফিরে শেষ হয়। এরপর শিক্ষার্থীরা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেন। বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে যন্ত্রকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ শাহরিয়ার অর্ণব বলেন, তাঁদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্য ভবনের তালা খোলা হবে না।
এর পর মঙ্গলবার সকালে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয়। সকাল সাড়ে ৯টার পর শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে তালা দিয়ে অবস্থান নেন। বিভিন্ন ব্যানার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা সাবেক উপাচার্য সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানান।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সূত্রপাত হয় সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের জারি করা প্রজ্ঞাপনকে কেন্দ্র করে। এতে অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম গত ২৭ জুলাই চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছিলেন। চার বছরের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হলেও ৫৬ দিনের মাথায় তাঁকে সরিয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের কারণ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
চুয়েটের শিক্ষক সমিতিও উপাচার্য পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে অধ্যাপক সায়েমকে পুনর্বহালের দাবি জানিয়েছে। সোমবার জরুরি সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানিয়েছে শিক্ষক সমিতি।
এদিকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম এর আগে কুয়েটের ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। চলতি বছরের এপ্রিলে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে কুয়েটের উপ-উপাচার্যের পদ থেকে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কতদিন চলবে এবং উপাচার্য পুনর্বহালের দাবির বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা এখনো স্পষ্ট হয়নি।
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!