যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

রাবির হলে ঘুমের মধ্যে কালাচ সাপের দংশন, হাসপাতালে শিক্ষার্থী

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৪৪ PM ৪২
রাবির হলে ঘুমের মধ্যে কালাচ সাপের দংশন, হাসপাতালে শিক্ষার্থী

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ শামসুজ্জোহা হল; এখানকার একটি কক্ষে সাপের দংশনে আহত হয়েছেন এক শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহিদ শামসুজ্জোহা হলের একটি কক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় কালাচ সাপের দংশনে নুরনবী ইসলাম নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ১৩৮ নম্বর কক্ষে ঘটনাটি ঘটে। পরে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থা উন্নতির দিকে এবং তিনি আশঙ্কামুক্ত।

নুরনবী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। ঘটনার সময় তিনি নিজের বিছানায় ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ পায়ে দংশনের অনুভূতি পেয়ে চিৎকার করলে রুমমেটরা জেগে ওঠেন এবং কক্ষের ভেতরে সাপটি দেখতে পান।

সহপাঠীরা দ্রুত তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়। রামেকের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শামীম আহমেদ জানান, পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দংশনকারী সাপটি ‘কমন ক্রেইট’ বা পাতি কালাচ বলে শনাক্ত করা হয়েছে। নুরনবীকে ইতোমধ্যে দুই ডোজ অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘সোয়ান’-এর সদস্যরা কক্ষটিতে গিয়ে সাপটি উদ্ধার করেন। সংগঠনটির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ শেখ জানান, খবর পাওয়ার পর তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং প্রায় তিন ফুট লম্বা কালাচ সাপটি নিরাপদে সরিয়ে নেন।

সাজ্জাদ শেখের ভাষ্য, কক্ষ অপরিষ্কার ও অগোছালো থাকলে সাপের উপস্থিতির ঝুঁকি বাড়তে পারে। উষ্ণতার খোঁজে কালাচ কখনো মানুষের বিছানায় উঠে আসতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

নুরনবীর রুমমেট হাবিবুর রহমান জানান, দংশনের পরই নুরনবী চিৎকার করে ওঠেন। পরে সাপটি দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তাঁর দাবি, এর আগেও হলের বিভিন্ন কক্ষে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি হল সংসদ ও প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল।

হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আল-আমিন সরকার বলেন, এর আগেও হলে সাপ প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এ কারণে আশপাশের ঘাস পরিষ্কার করা, সাপ প্রতিরোধে সার্কেল দেওয়া এবং ভবনের সামনের দুই পাশে ব্লিচিং পাউডার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে পাঁচতলায় সাপ পাওয়ার ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন। সাপটি কীভাবে ওই কক্ষে ঢুকেছে, তা নিশ্চিত নয় বলে জানান তিনি। ভবিষ্যতে আরও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম জানান, নুরনবীর অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তাকে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার পাশাপাশি আইসিইউ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিক্ষার্থীর চিকিৎসা পরিস্থিতি নিয়ে হল প্রাধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত খোঁজ রাখছেন।

এদিকে রাকসুর পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মাসুদ অভিযোগ করেন, এর আগেও জোহা হলে সাপ ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। হল প্রাধ্যক্ষকে জানানোর পরও ১৫ দিনের মধ্যে পুরো হলে নেট স্থাপনের ব্যবস্থা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তায় রোববার দুপুর ১২টার মধ্যে হলের চারপাশের ঝোপঝাড় ও আবর্জনা পরিষ্কার এবং পুরো ভবনে নেট স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীর ওই দিনের সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষা বাতিলের দাবিও জানান।

হল সংসদের ভিপি আশিকুর রহমান সোহাগ জানান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ঘাস কাটার মেশিন ও স্নেক নেটসহ নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়নে দেরি হচ্ছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির পর ব্যবস্থা নেওয়ার অপেক্ষা করা উচিত নয়।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!