যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

ইরানের ৫ ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১১ PM ৮৭
ইরানের ৫ ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, জর্ডানে পাল্টা আঘাত

ছবি: এক্স@সেন্টকম

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান। জর্ডানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ১৮টি ধ্বংস করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ওমান উপসাগর ও ইরানের খার্গ দ্বীপের আশপাশে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, এর আগে দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুই দফা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করেছিল ইরান। জাহাজটি হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং এতে থাকা মার্কিন সেনা বা কর্মীদের কেউ হতাহত হননি বলে জানিয়েছে সেন্টকম।

এরপর পাঁচটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ—এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১, এম/টি রিয়েস্কো ও এম/টি দেরিয়ায় হামলা চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি অনুযায়ী, হামলার আগে জাহাজগুলোর কর্মীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে এম/টি রিয়েস্কো ডুবে যাওয়ার একটি ভিডিও প্রকাশ করে সেন্টকম।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানি জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান মার্কিন নৌবাহিনীর কোনো জাহাজে হামলা করলে বা হামলার চেষ্টা চালালে তার জবাব হিসেবে ইরানের একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করা হবে।

অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি জানিয়েছে, খার্গ দ্বীপের কাছে একটি এবং ওমান উপসাগরের দক্ষিণে জাস্ক বন্দরের কাছে আরেকটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে।

এই হামলার পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে জর্ডানের আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)। তাদের দাবি, ইরানের কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবেই এ অভিযান চালানো হয়েছে। হামলায় মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার একটি হ্যাঙ্গার ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি।

সূত্র: আলজাজিরা

এ ছাড়া মার্কিন নৌবাহিনীর দুটি ডেস্ট্রয়ার—ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩—লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ার দাবি করেছে আইআরজিসি। পরে আরও দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানোর দাবিও করা হয়েছে। এসব দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাতের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতিও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলছে। বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৯ ডলারে ওঠে।

এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের কাছাকাছি বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী জাহাজের কর্মীদের দ্রুত জাহাজ ছেড়ে যাওয়ার বিষয়ে সতর্ক করেছে আইআরজিসি। এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ইরানি ট্যাংকারে হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হবে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!