মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: সংগৃহীত
নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়মে পরিবর্তন আনার ট্রাম্প প্রশাসনের প্রচেষ্টা আপাতত কার্যকর হচ্ছে না। এ বিষয়ে প্রশাসনের আবেদন খারিজ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে ডাকযোগে ভোটের সুযোগ সংকুচিত করার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে আপাতত বাধা তৈরি হয়েছে। এ সংক্রান্ত স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের করা আবেদন গ্রহণ করেননি দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্ট এ সিদ্ধান্ত দেয়। নয় সদস্যের আদালতে সংখ্যাগরিষ্ঠ বিচারপতির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত হলেও বিচারপতি ব্রেট কাভানা আলাদা মতামত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, দীর্ঘমেয়াদি বিবেচনায় ট্রাম্পের পরিকল্পনা আইনসঙ্গত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। তবে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এটি কার্যকর করার মতো পর্যাপ্ত সময় অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় নির্বাচন কর্তৃপক্ষের হাতে নেই।
ইতোমধ্যে নর্থ ক্যারোলাইনাসহ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ডাকযোগে ভোটের ব্যালট ভোটারদের কাছে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই পর্যায়ে নিয়মে বড় পরিবর্তন আনা হলে ভোট পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ও বাস্তবায়নগত জটিলতা দেখা দিতে পারে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
ডাকযোগে ভোটের পরিধি কমানোর উদ্দেশ্যে ট্রাম্প গত মার্চে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন না করেই এ ধরনের ভোট ব্যবস্থায় জালিয়াতির আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। আদেশের পরই এর বৈধতা নিয়ে একাধিক মামলা হয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এসব মামলার কয়েকটি করেছে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা অঙ্গরাজ্যগুলো। তাদের বক্তব্য, মার্কিন সংবিধানের কাঠামো অনুযায়ী নির্বাচন আয়োজন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে অঙ্গরাজ্যগুলোর বিস্তৃত কর্তৃত্ব রয়েছে। ফেডারেল সরকারের পক্ষে সেই ক্ষমতার ওপর এভাবে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ নেই বলেও তারা যুক্তি দেয়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোটের নিয়ম পরিবর্তন নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অঙ্গরাজ্যগুলোর চলমান আইনি বিরোধে সর্বশেষ এই রায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নির্বাচনের আগমুহূর্তে ডাকযোগে ভোটের বিধিনিষেধ কার্যকর করার প্রশাসনিক উদ্যোগ আপাতত আদালতের সিদ্ধান্তের কারণে থমকে গেল।
ডোনাল্ড ট্রাম্প
কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!