যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান, সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমল ৫০ শতাংশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:১৫ PM ৮০
জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান, সরকারি গাড়ির জ্বালানি বরাদ্দ কমল ৫০ শতাংশ

ছবি: রয়টার্স

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তান সরকার নতুন করে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি ঘোষণা করেছে। এর আওতায় আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। পাশাপাশি সরকারি কাজে নতুন যানবাহন কেনা বন্ধ, অধিকাংশ বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা এবং সরকারি নৈশভোজ বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় প্রশাসনিক ব্যয় কমানোর পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি খাত ছাড়া অন্যান্য স্থায়ী ও ভারী পণ্য কেনায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। বাধ্যতামূলক বা স্কলারশিপ-সংক্রান্ত প্রয়োজন ছাড়া সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণও তিন মাসের জন্য বন্ধ থাকবে।

জরুরি প্রয়োজনে বিদেশ ভ্রমণ করতে হলে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ইকোনমি ক্লাসে ভ্রমণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ব্যয় ও জ্বালানি ব্যবহার কমাতে কর্মকর্তাদের সরাসরি বৈঠকের পরিবর্তে টেলিকনফারেন্স ও অনলাইন সভা ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।

জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে দেশজুড়ে দোকান, বাজার ও বিপণিবিতান রাত ৯টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিয়েসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে অতিথিদের জন্য এক পদের খাবার পরিবেশনের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সরকারি ব্যয় কমাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ছাড়া অন্যান্য প্রশাসনিক ব্যয়ে ৫ শতাংশ কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থায়নে সেমিনার, প্রশিক্ষণ ও সম্মেলন আয়োজনেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাবে পাকিস্তানে পেট্রোল ও ডিজেলের দামেও পরিবর্তন এসেছে। সর্বশেষ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি ০.৪৩ রুপি কমে ৩৯০.৭৯ রুপি হয়েছে। অন্যদিকে হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৩.৪৭ রুপি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪.৯২ রুপি।

জ্বালানি সংকটের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ কমাতে মোটরসাইকেল, রিকশা ও ছোট গাড়ির জন্য ভর্তুকি কর্মসূচিও চালু করেছে পাকিস্তান সরকার। নির্দিষ্ট মাসিক কোটার আওতায় এসব যানবাহনের জ্বালানিতে প্রতি লিটারে ১০০ রুপি ভর্তুকি দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে চলতি বছরের মার্চেও জ্বালানি সাশ্রয় ও সরকারি ব্যয় কমাতে একই ধরনের কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ নিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন করে এসব ব্যবস্থা কার্যকর করা হলো।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!