যুক্তরাষ্ট্র   শুক্রবার ২৩ অক্টোবর ২০২৬,৭ কার্তিক ১৪৩৩

দুই প্রান্তের নীরব সুর (প্রথম পর্ব)

সবুজ নিশান ডেস্ক

সবুজ নিশান ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৫ জুন ২০২৬, ০৩:১৫ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৩৪ AM ১৩৬
দুই প্রান্তের নীরব সুর (প্রথম পর্ব)

প্রতীকী ছবি। 'দুই প্রান্তের নীরব সুর' গল্পের ভাবনা ত

একদিন হঠাৎ করেই ভাগ্য যেন নিজের খেয়াল বদলে নিল।

ঢাকার এক বড় পরীক্ষার হল—চারপাশে কাগজের শব্দ, টেনশনের নীরবতা আর ভবিষ্যতের ভারী চাপ। সেই হলেই প্রথমবার মুখোমুখি হয় ফিয়া আর নাসির।

ফিয়া—একজন শান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমতী মেয়ে। তার চোখে সবসময় একটা প্রশ্ন লুকানো থাকত, যেন সে পৃথিবীর প্রতিটি জিনিস বুঝে ফেলতে চায়। সে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু ভালো ছাত্রীই না, বরং একদম টপারদের একজন। তবে তার মধ্যে একটু অদ্ভুত স্বভাব ছিল—সে মানুষের সাথে সহজে মিশতে পারত না, নিজের জগতে একটু বেশিই ডুবে থাকত।

অন্যদিকে নাসির ছিল একদম ভিন্ন ধাঁচের মানুষ। সে শুধু বুদ্ধিমানই না, বরং ক্লাসের সবচেয়ে লজিক্যাল চিন্তাধারার ছাত্র। যে কোনো সমস্যাকে সে ভেঙে টুকরো টুকরো করে বিশ্লেষণ করত। তার পড়াশোনা ছিল শক্ত, স্কিল ছিল অসাধারণ, আর সে সবসময় শান্ত মাথায় সিদ্ধান্ত নিত। ক্লাসের সবাই তাকে “টপার” বলেই চিনত।

সেই পরীক্ষার হলেই প্রথমবার তাদের চোখাচোখি হয়। খুব সাধারণ এক মুহূর্ত—কিন্তু কোথাও যেন অদ্ভুত একটা পরিচয়ের সুর বেজে ওঠে।

পরীক্ষা শেষে আরেকটা কাকতালীয় ঘটনা ঘটে। তারা আলাদা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়—দুই প্রান্তে, দুই শহরে। কিন্তু সেই একদিনের পরিচয়টা অদৃশ্যভাবে মনে থেকে যায়।

সময়ের সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়া আর কিছু সাধারণ আলাপচারিতায় তাদের মাঝে একটা বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। শুরুতে সেটা ছিল একদম সাধারণ—পড়াশোনা, নোট শেয়ার, ছোট ছোট প্রশ্ন। কিন্তু ধীরে ধীরে কথাগুলো গভীর হতে থাকে।

ফিয়া লক্ষ্য করল, নাসির শুধু বুদ্ধিমানই না, সে খুব ধৈর্যশীলও। কোনো সমস্যায় সে তাড়াহুড়া করে না, বরং চিন্তা করে এগোয়। আর নাসির বুঝতে পারল, ফিয়ার “অব্যক্ত ভাবনা” আসলে খুব গভীর, সে শুধু সহজে প্রকাশ করতে পারে না।

ধীরে ধীরে তাদের কথার মাঝে এক অদৃশ্য টান তৈরি হলো। তারা একে অপরকে না দেখেও বুঝতে শিখল। কখনো রাতের পড়াশোনার মাঝে হঠাৎ মেসেজ, “এই টপিকটা বুঝছিস?” বা “আজ মনটা একটু অদ্ভুত লাগছে…”

সময় গড়িয়ে যেতে থাকে।

একদিন নাসির হঠাৎ করে বুঝতে পারে—ফিয়ার সাথে কথা না বললে তার দিন অসম্পূর্ণ লাগে। আর ফিয়াও লক্ষ্য করে, নাসিরের লজিক্যাল ব্যাখ্যার ভেতরেও একটা অদ্ভুত শান্তি আছে, যেটা তাকে স্থির করে দেয়।

কিন্তু সমস্যা ছিল একটা—তারা দুই প্রান্তে, দুই আলাদা বাস্তবতায়।

নাসির সবকিছু যুক্তি দিয়ে দেখে, কিন্তু ফিয়ার অনুভূতি একটু বেশি গভীর। সে মাঝে মাঝে নিজের ভেতরের অস্থিরতা লুকাতে পারে না। আর নাসির সেটা ধরতে পারলেও সবসময় শব্দে প্রকাশ করতে পারে না। তবুও, সময় তাদের থামায় না। এক সন্ধ্যায় নাসির ফিয়াকে একটা মেসেজ পাঠায়— “তুই কি জানিস, আমরা কতটা দূরে থাকলেও আমার চিন্তার একটা অংশ সবসময় তোর দিকে ফিরে আসে?”

ফিয়া কিছুক্ষণ চুপ থাকে। তারপর ধীরে লিখে— “আমি জানি না এটা কী… কিন্তু তোর কথা না থাকলে আমার দিনটা অসম্পূর্ণ লাগে।”

সেই দিন থেকে সম্পর্কটা আর শুধু বন্ধুত্ব থাকল না।

এটা হয়ে গেল এক ধীরে ধীরে গড়ে ওঠা অনুভূতির গল্প—যেখানে ছিল বুদ্ধি, লজিক, দূরত্ব, আর নীরব ভালোবাসা।

কিন্তু তারা দুজনেই জানত—ভালোবাসা মানে শুধু কাছে থাকা না, বরং দূরে থেকেও একে অপরকে বুঝে নেওয়া।

আর সেই বোঝাপড়ার ভেতরেই লেখা হচ্ছিল ফিয়া আর নাসিরের এক অদৃশ্য গল্প…

 

লেখক: ফাহমিদা খাতুন

১ মন্তব্য


Riya

Khub shundor ,

২৫ জুন ২০২৬, ০৩:২১ PM