যুক্তরাষ্ট্র   সোমবার ২৬ অক্টোবর ২০২৬,১০ কার্তিক ১৪৩৩

বিদ্যুৎ সংকটে গার্মেন্টস উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৭ PM ৫৯
বিদ্যুৎ সংকটে গার্মেন্টস উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃৃহীত

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে বড় ধরনের প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতির কারণে দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, শিল্প উৎপাদনের জন্য বিদ্যুৎ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্যাস, তেল ও সৌরশক্তিসহ বিভিন্ন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এর প্রভাব শিল্প খাতে পড়ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তৈরি পোশাক খাতের পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের আমির বলেন, সম্প্রতি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সঙ্গে রাষ্ট্রপতির সাক্ষাতের সময় চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না পাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়েছে। ওই কারণে পোশাক কারখানাগুলোর উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমেছে বলে তিনি দাবি করেন।

উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর একাধিক ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, উৎপাদন কম থাকলে ব্যাংকঋণ পরিশোধে সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। একই সঙ্গে শ্রমিক ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইয়ের আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।

রপ্তানি আদেশ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। সময়মতো বিদেশি ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করা সম্ভব না হলে তারা অন্য দেশের সরবরাহকারীদের কাছে যেতে পারেন এবং অর্ডার বাতিলেরও আশঙ্কা থাকে বলে মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, তৈরি পোশাক উৎপাদনে বাংলাদেশ এককভাবে প্রতিযোগিতা করছে না। বিশ্বের আরও অনেক দেশ এই খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ফলে বাংলাদেশের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে বিদেশি ক্রেতাদের বিকল্প উৎস বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতের এমন পরিস্থিতি হলে অন্যান্য শিল্পের অবস্থাও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে গত ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহ গার্মেন্টস ব্যবসায়ীদের সংকট ও সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন বলেও জানান তিনি।

শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে নিজের আলোচনার কথা উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, তাদের কাছ থেকেও একই ধরনের উদ্বেগের কথা শুনেছেন। তাঁর দাবি, ব্যবসায়ীরা দেশের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সরবরাহব্যবস্থায়ও প্রভাব পড়েছে বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির। তাঁর মতে, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই ওই অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং এরই মধ্যে ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন ছিল বলে তিনি মনে করেন।

সরকারকে সহযোগিতার প্রস্তাব দেওয়ার কথাও জানান শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গত ৭ সেপ্টেম্বর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সরকারকে এ বিষয়ে আহ্বান জানানো হয়েছে। তাঁদের একটি কারিগরি বিশেষজ্ঞ দল রয়েছে, যারা দেশ-বিদেশে কাজ করছেন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অভিজ্ঞ। সরকার সুযোগ দিলে ওই বিশেষজ্ঞরা সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট নিয়ে আগেও সংসদে কথা বলার দাবি করেন শফিকুর রহমান। তাঁর অভিযোগ, অতীতে তেলের সংকট ও বিদ্যুৎ সংকটের বিষয়টি সরকার অস্বীকার করেছিল।

এ সময় সরকারের বিভিন্ন নীতির সমালোচনা করে ছয় দফা দাবিতে আন্দোলন চালানোর কথাও জানান তিনি। তাঁর উল্লেখ করা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, বৈষম্য দূর করা, দলীয়করণ বন্ধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি দমন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কৃষকদের জন্য সার সরবরাহ নিশ্চিত করা।

এর আগে শনিবার সকালে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামে ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন শফিকুর রহমান।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!