যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

সরকারের ভুলে নীরব থাকবে না বিরোধী দল: শফিকুর রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৬ PM | সর্বশেষ আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৭ PM ১৭
সরকারের ভুলে নীরব থাকবে না বিরোধী দল: শফিকুর রহমান

ছবি: সংগৃহীত

সরকারের ভুল, অনিয়ম ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত অগ্রগতির ঘাটতি নিয়ে সংসদে সরব থাকার কথা জানিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, সরকারের ভালো উদ্যোগে সমর্থন জানানো হবে, তবে ভুলের সমালোচনা থেকেও বিরোধী দল সরে আসবে না। একের পর এক অনিয়ম ঘটলে বিরোধী দল চুপ করে থাকতে পারে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান। এ সময় আইনশৃঙ্খলা, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, প্রশাসনে দলীয় প্রভাব, গণমাধ্যম, প্রবাসীদের অধিকার এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে।

বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, সংসদে দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে চায় তাঁর দল। অতীতে সরকারি দলের সব কর্মকাণ্ডকে ভালো এবং বিরোধী দলের অবস্থানকে নেতিবাচকভাবে দেখানোর রাজনৈতিক প্রবণতার সমালোচনা করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বিরোধী দল সংসদে অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে—এমন প্রত্যাশা যেমন গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তে নিঃশর্ত সমর্থন দেওয়াও তাদের কাজ নয়।

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন শফিকুর রহমান। তাঁর মতে, পুলিশ বাহিনীতে দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তা থাকলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং মাদক নির্মূলে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রশাসনিক নিয়োগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাবের অভিযোগ তুলেও বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা। জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়ার পরিবর্তে সাময়িকভাবে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া যেত কি না, সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সরকারি কর্ম কমিশনেও দলীয়করণের অভিযোগ তুলে এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ জানান।

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিরা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পদ নন; বরং তাঁদের কারণে দল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাঁর অভিযোগ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সেগুলোরও যথাযথ তদন্ত ও ব্যবস্থা হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, ভুল করলে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকে ছাড় দেওয়া উচিত নয়।

নিজ দলের একজন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, ওই সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দল দেরি করেনি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং বহিষ্কারের পর ওই ব্যক্তির সঙ্গে দলের আর কোনো সম্পর্ক নেই।

গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়েও মন্তব্য করেন শফিকুর রহমান। দেশের বিভিন্ন স্থানের ঘটনা সম্পর্কে জানতে সংবাদমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন প্রতিষ্ঠার পেছনে গণমাধ্যমেরও দায় থাকতে পারে বলে মত দেন জামায়াত আমির।

সৌদি আরবের কারাগারে সাত হাজারের বেশি বাংলাদেশি বন্দি থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশটির আইন অনুযায়ী তাঁদের বিচার হবে। তবে বন্দিদের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারকে অবহিত রাখা প্রয়োজন, যাতে তাঁদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা যায়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান জানান, জামায়াত জোটগতভাবে এসব নির্বাচনে অংশ নেবে না। অতীতেও দলটি এভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভবিষ্যতে নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানান জামায়াত আমির।

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতে ইসলামী

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!