যুক্তরাষ্ট্র   রবিবার ২৫ অক্টোবর ২০২৬,৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদা না দেওয়ায় হৃদয় হত্যা: দুজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

ইমন শেখ (বগুড়া প্রতিনিধি)

ইমন শেখ (বগুড়া প্রতিনিধি)

প্রকাশিত: ৩১ আগস্ট ২০২৬, ০২:১৭ PM ৬৫
চাঁদা না দেওয়ায় হৃদয় হত্যা: দুজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন

বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে রাগিবুল হাসান হৃদয় হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির দণ্ড ঘোষণা করেছেন আদালত। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ায় চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে রাগিবুল হাসান হৃদয়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার মামলায় পাঁচ আসামির সাজা ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে সাদ্দাম হোসেন স্বাধীন ও মো. রাব্বিকে মৃত্যুদণ্ড এবং আশিক, শাকিল ও মতিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-৫ আদালতের বিচারক কৌশিক আহমেদ খোন্দকার আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, আদায় করা জরিমানার অর্ধেক অর্থ নিহত হৃদয়ের সন্তানকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট অর্ধেক রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিতে বলা হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যায় বগুড়া মহানগরের কৈপাড়া পুকুরপাড় এলাকায় হৃদয়দের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে চাঁদা দাবি করেন আসামিরা। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা প্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে হৃদয়কে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন।

ছেলেকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদও হামলার শিকার হন। তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে গুরুতর আহত হৃদয়কে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষীদের বক্তব্য ও অন্যান্য সাক্ষ্য-প্রমাণ গ্রহণের পর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়।

রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত হৃদয়ের বাবা-মা। হৃদয়ের মা আয়েশা সিদ্দিকা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তার একমাত্র ছেলে কোরআনের হাফেজ ছিলেন। ঈদের আগের দিন ধারালো অস্ত্রের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর ঈদের দিন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর পরের দিন হৃদয়ের স্ত্রী সন্তান জন্ম দেন।

রায় ঘোষণার পর আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আমরা রায়ে সন্তুষ্ট। দ্রুত এই রায় কার্যকর হোক।”

নিহত হৃদয়ের বাবা মামুনুর রশিদও আদালতের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাসুদার রহমান বলেন, চাঁদা না পাওয়ার কারণে আসামিরা হৃদয়কে নৃশংসভাবে হত্যা করেন। তদন্ত শেষে আদালতে উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পাঁচ আসামিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। তিনি রায় দ্রুত কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।

বগুড়া হৃদয় হত্যা

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!