যুক্তরাষ্ট্র   মঙ্গলবার ৩ নভেম্বর ২০২৬,১৮ কার্তিক ১৪৩৩

জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা, পূর্বাভাস জাতিসংঘের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩০ PM ৪৯
জ্বালানি সংকটে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা, পূর্বাভাস জাতিসংঘের

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে চাপ তৈরি করছে। সংগৃহীত ছবি

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিশ্ব অর্থনীতির সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এর জেরে ২০২৬ সালে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা আঙ্কটাড। গত বছর বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির হার ছিল ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

শুক্রবার প্রকাশিত সংস্থাটির ‘ট্রেড অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬’-এ এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি সামান্য বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশ হতে পারে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালে এসব দেশের প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। চলতি বছর তা কমে ৪ শতাংশে নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। তবে মূল্যবৃদ্ধির আংশিক প্রভাব সত্ত্বেও গত বছর বিশ্বব্যাপী পণ্য ও সেবা বাণিজ্যের পরিমাণ রেকর্ড ৩৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল। ২০২৬ সালে এ বাণিজ্য ৪ শতাংশ বাড়তে পারে বলে ধারণা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও প্রবৃদ্ধির গতি কমার পূর্বাভাস রয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতে বিনিয়োগ এবং শ্রমবাজারের স্থিতিশীলতা দেশটির অভ্যন্তরীণ চাহিদা ধরে রাখতে সহায়তা করছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতি মানুষের প্রকৃত মজুরির ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। আঙ্কটাডের হিসাবে, ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ২ দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়ানোর আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্বল বিনিয়োগ, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভাজন এবং জ্বালানির দামের অস্থিরতা পশ্চিম ইউরোপের অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। বিপরীতে, সেমিকন্ডাক্টর ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদা বাড়ায় দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান অর্থনৈতিকভাবে সুবিধা পাচ্ছে।

আঙ্কটাডের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব পেদ্রো ম্যানুয়েল মোরেনো বলেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি স্থিতিস্থাপকতা দেখালেও এর আড়ালে বিভিন্ন দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ব্যবধান বাড়ছে। এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল কয়েকটি অর্থনীতি বাদে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অনেকেই উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোর সঙ্গে প্রবৃদ্ধির প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে।

মোরেনোর মতে, বিভিন্ন দেশ এখন শিল্পনীতি ও অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তে কৌশলগত স্বার্থ এবং জাতীয় নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ফলে শিল্পায়ন, পণ্য রপ্তানি এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় যুক্ত হওয়ার মাধ্যমে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার প্রচলিত সুযোগগুলো আগের মতো নির্ভরযোগ্য থাকছে না।

প্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগের অসম বণ্টনও উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় বাধা হয়ে উঠছে। মোরেনো জানান, সেমিকন্ডাক্টর, এআই এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে নতুন বিনিয়োগের প্রায় ৭০ শতাংশই উন্নত অর্থনীতির দেশগুলোতে কেন্দ্রীভূত। অন্যদিকে, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও এসব সম্পদের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজনের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হচ্ছে।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পোর্টফোলিও বিনিয়োগের অস্থিরতা এবং টানা তৃতীয় বছরের মতো আনুষ্ঠানিক উন্নয়ন সহায়তা কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরেছেন আঙ্কটাডের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব। তাঁর মতে, এসব চাপ উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

০ মন্তব্য


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্য করুন!